সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ০৯:২৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

কাঠমান্ডুতে মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যুর পর বিক্ষোভ, প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
  • ৪৪ জন সংবাদটি দেখেছেন

নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে ২৫ বছর বয়সী এক মোটরসাইকেলচালকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন মহানগর প্রশাসনের জবাবদিহি দাবি করে রাস্তায় নেমেছেন শত শত বিক্ষোভকারী।

সোমবার (১৩ জুলাই) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গণেশ নেপালি নামের ওই তরুণ রাইড-শেয়ারিং মোটরসাইকেলচালক হিসেবে কাজ করতেন। ঘটনার দিন তিনি কাঠমান্ডুর একটি সড়কে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। এ সময় মহানগর পুলিশের সদস্যরা তার মোটরসাইকেলের চাকায় ‘হুইল লক’ লাগিয়ে দেন।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনার প্রতিবাদে গণেশ নিজের শরীরে পেট্রল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে পরে তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর থেকেই প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে জমে থাকা অসন্তোষ নতুন করে সামনে আসে।

রোববার কাঠমান্ডুর সিংহদরবার সচিবালয়ের সামনে শত শত মানুষ বিক্ষোভ করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘গরিবদের ওপর নির্যাতন বন্ধ করো’ এবং ‘মানবাধিকারকে সম্মান করো’সহ বিভিন্ন স্লোগান দেখা যায়।

বিক্ষোভকারীরা অবৈধ গ্রেপ্তার বন্ধ, উচ্ছেদ হওয়া বস্তিবাসীদের পুনর্বাসন এবং মহানগর পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার বন্ধের দাবি জানান।

২০২২ সালে কাঠমান্ডুর মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পর বালেন্দ্র শাহর প্রশাসন ফুটপাত দখলমুক্ত করা, অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ এবং বস্তি অপসারণে বিভিন্ন অভিযান পরিচালনা করে। এসব অভিযানের সময় একাধিকবার উত্তেজনা ও সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, মহানগর পুলিশের ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে বলপ্রয়োগের অভিযোগ রয়েছে।

আইনজীবী রাজু চাপাগাই বলেন, আইন অনুযায়ী মহানগর পুলিশের দায়িত্ব প্রশাসনিক কার্যক্রমে সহায়তা করা ও স্থানীয় সমন্বয় রক্ষা করা। বলপ্রয়োগ বা দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা তাদের নেই।

তিনি অভিযোগ করেন, যানজট বা সড়ক ব্যবস্থাপনার মতো বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব থাকলেও মহানগর পুলিশের সদস্যদের হকারদের ধাওয়া, ব্যক্তিগত সম্পত্তি জব্দ এবং নাগরিকদের মারধরের অভিযোগ উঠেছে, যা আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

নেপালের সংবিধান স্থানীয় সরকারকে পৌর পুলিশ গঠনের ক্ষমতা দিয়েছে। সেই ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালে ‘কাঠমান্ডু মেট্রোপলিটন সিটি মিউনিসিপাল পুলিশ আইন’ প্রণয়ন করা হয়।

তবে ওই আইনে মহানগর পুলিশকে গ্রেপ্তার, লাঠিচার্জ বা জনতা নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা দেওয়া হয়নি। তাদের দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পৌর সম্পদের নিরাপত্তা, পার্ক তদারকি, পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং স্থানীয় অনুষ্ঠান ব্যবস্থাপনায় সহায়তা করা।

নেপাল পুলিশের সাবেক ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল পূর্ণ চন্দ্র জোশি বলেন, মহানগর পুলিশ একটি সহায়ক বাহিনী। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বলপ্রয়োগের প্রয়োজন হলে সেই দায়িত্ব নেপাল পুলিশের।

অন্যদিকে, বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বালেন্দ্র শাহর প্রশাসনের অধীনে মহানগর পুলিশ নিয়মিত দিনমজুর, ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী ও নিম্নআয়ের মানুষের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান চালিয়ে আসছে। এসব অভিযানের বিভিন্ন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com