বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষের ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে ‘পোষ্য কোটা’সহ বিভিন্ন কোটা বহাল রাখার সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের একাংশের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ক্যাম্পাসে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রকাশিত ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে মুক্তিযোদ্ধা, ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ও প্রতিবন্ধী কোটার পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত ‘পোষ্য কোটা’ও বহাল রাখা হয়। এরপরই বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শামসুর রহমান সুমন বলেন, “বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের চেতনার সঙ্গে পোষ্য কোটা সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এ ধরনের কোটা পুনর্বিবেচনা করা উচিত।”
আরেক শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান জয় বলেন, “উচ্চশিক্ষায় ভর্তি প্রক্রিয়ায় মেধার সর্বোচ্চ মূল্যায়ন নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হতে পারে, তবে পোষ্য কোটা বহাল রাখা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ও অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, “দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ ধরনের কোটা প্রচলিত থাকায় আমাদের ভর্তি নীতিমালাতেও তা রাখা হয়েছে। এটি কেন্দ্রীয় ভর্তি কমিটির সিদ্ধান্ত। তবে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মতামত ও আলোচনা বিবেচনায় কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন হলে পুনর্বিবেচনা করতে পারে।”
শিক্ষা-সংশ্লিষ্টদের মতে, ভর্তি নীতিমালায় কোটা ব্যবস্থা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জাতীয় পর্যায়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে ‘পোষ্য কোটা’ উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কতটা যৌক্তিক, তা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ভর্তি নীতিমালা পুনর্বিবেচনা করবে কি না, তা নিয়ে ক্যাম্পাসে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।