নিজের সাম্প্রতিক মন্তব্য নিয়ে জাতীয় সংসদে দুঃখ প্রকাশ করেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। একই সঙ্গে তিনি ঘোষণা দিয়েছেন, পদার্থবিজ্ঞান (প্রথমপত্র), হিসাববিজ্ঞান এবং যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষা পুনরায় নেওয়া হবে।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) জাতীয় সংসদে বগুড়া বিশ্ববিদ্যালয় বিল-২০২৬ পাসের আগে সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাব দিতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “আমার ব্যক্তিগত মন্তব্য নিয়ে অনেকেই আপত্তি জানিয়েছেন। আমি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কাউকে কিছু বলিনি। তারপরও আমার বক্তব্যে কেউ আহত হয়ে থাকলে আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।”
তার এ বক্তব্যের পর সংসদ সদস্যরা টেবিল চাপড়ে তা স্বাগত জানান।
পরীক্ষা পুনরায় নেওয়ার বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পদার্থবিজ্ঞান, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা পরীক্ষার দিন প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে অনেক পরীক্ষার্থী ভোগান্তিতে পড়েছে এবং পরীক্ষা সন্তোষজনকভাবে দিতে পারেনি বলে অভিযোগ এসেছে।
তিনি জানান, বন্যার কারণে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষাগুলো ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে এবং সেসব পরীক্ষা নতুন প্রশ্নপত্রে পুনরায় নেওয়া হবে। একই সময় পদার্থবিজ্ঞান (তত্ত্বীয়) প্রথমপত্র, হিসাববিজ্ঞান ও যুক্তিবিদ্যা বিষয়ের পরীক্ষাও পুনরায় নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা জানতে চান, প্রতিকূল আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকা সত্ত্বেও পদার্থবিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা কেন এক বা দুই দিন পিছিয়ে দেওয়া হয়নি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে প্রায় দুই হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। পরীক্ষার আগে সরকার ৬৪ জেলার প্রশাসন, আট বিভাগীয় কমিশনার, শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখে। সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে অনুকূল পরিস্থিতির তথ্য পাওয়ার পরই যথাসময়ে পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও বলেন, “বিকেল ৫টা পর্যন্ত আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেছি। সংশ্লিষ্ট সবাই জানিয়েছিলেন আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকবে। কিন্তু সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি কলেজের মাঠ পানিতে তলিয়ে গেছে। সঙ্গে সঙ্গে পরীক্ষাকেন্দ্র স্থানান্তরের নির্দেশ দেওয়া হয়। কুমিল্লা মহিলা কলেজে এক পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে শুকনো পোশাকের ব্যবস্থা করে এক ঘণ্টা পর পরীক্ষা নেওয়া হয় এবং অতিরিক্ত সময়ও দেওয়া হয়।”
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারাদেশে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানা গেছে, কুমিল্লার ওই ঘটনাটি ছাড়া অন্য কোথাও পরীক্ষা আয়োজন নিয়ে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হয়নি।