জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের সঙ্গে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিলেও নিজেদের স্বতন্ত্র দলীয় পরিচয় আরও স্পষ্ট করতে চাইছে জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি। বিশেষ করে জোটের লংমার্চ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের সুফল এবং পৃথক দল হিসেবে নিজেদের সাংগঠনিক অবস্থান নিয়ে দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে ১১–দলীয় ঐক্যের খুলনা বিভাগীয় লংমার্চের এক দিন আগে শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) রাজধানীর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে এনসিপি।
দলটির ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখার যৌথ উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিচ্ছে এনসিপি।
চট্টগ্রাম ও রংপুর বিভাগীয় লংমার্চে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেনসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা অংশ নিয়েছিলেন।
তবে দলটির কয়েকজন নীতিনির্ধারকের পর্যবেক্ষণ, জোটের এসব কর্মসূচিতে অংশ নিয়েও পৃথক রাজনৈতিক দল হিসেবে এনসিপির পরিচিতি প্রত্যাশিতভাবে তুলে ধরা যাচ্ছে না।
এই পরিস্থিতিতে নিজেদের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও স্বতন্ত্র কর্মসূচি বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে দলটি।
শাহবাগের গণবিক্ষোভকে সামনে রেখে ২৩ অক্টোবর থেকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রচারপত্র বিতরণ করছেন এনসিপির নেতারা।
এসব কার্যক্রমে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারজিস আলম ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা অংশ নিয়েছেন।
আগামী শনিবার (৩১ অক্টোবর) খুলনা বিভাগে লংমার্চ কর্মসূচি রয়েছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১–দলীয় ঐক্যের।
তবে এবারের কর্মসূচিতে এনসিপির অংশগ্রহণ আগের দুই লংমার্চের তুলনায় সীমিত হতে পারে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে জানিয়েছে প্রথম আলো।
এনসিপির রাজনৈতিক পর্ষদের একজন সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, খুলনার লংমার্চে দলটির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম না-ও যেতে পারেন।
বর্তমান আলোচনা অনুযায়ী, এনসিপির প্রতিনিধি হিসেবে সারজিস আলম অংশ নিতে পারেন।
তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
এনসিপির কয়েকজন নীতিনির্ধারকের মতে, ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চ জনপরিসরে মূলত জামায়াতের কর্মসূচি হিসেবে পরিচিতি পাচ্ছে।
তাঁদের পর্যবেক্ষণ, এতে এনসিপির নিজস্ব রাজনৈতিক পরিচিতি এবং সাংগঠনিক সক্ষমতা কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
দলটির রাজনৈতিক পর্ষদের আরেকজন সদস্য জানিয়েছেন, জামায়াতের সঙ্গে কিছুটা সাংগঠনিক দূরত্ব বজায় রাখার বিষয়েও আলোচনা চলছে।
তবে এসব বক্তব্য সংশ্লিষ্ট নেতাদের পর্যবেক্ষণ ও অভ্যন্তরীণ আলোচনার তথ্য; জোট থেকে বেরিয়ে যাওয়ার আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত নয়।
অন্যদিকে এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার জানিয়েছেন, শাহবাগের গণবিক্ষোভের সঙ্গে ১১–দলীয় ঐক্যের লংমার্চের কোনো বিরোধ নেই।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে কেন্দ্র করে দলের সাংগঠনিক কার্যক্রম এবং মহানগর কমিটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে।
পাশাপাশি জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যুতে স্বতন্ত্র কর্মসূচি দেওয়ার প্রয়োজনীয়তাও তৈরি হয়েছে।
এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়েই গণবিক্ষোভের আয়োজন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে নাহিদ ইসলামকে খুলনার লংমার্চে অংশ নেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে বলে দলীয় সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বুধবার ১১–দলীয় ঐক্যের নেতাদের বৈঠকেও অংশ নিয়েছিলেন নাহিদ ইসলাম।
ফলে খুলনার লংমার্চে এনসিপির শীর্ষ নেতৃত্বের উপস্থিতি কেমন হবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।