চিকিৎসকদের মতে, শীতে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি রোধে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
চিকিৎসকদের মতে, শীতে ভিটামিন ডি-র ঘাটতি রোধে খাদ্যাভ্যাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
শীতকালে দিনের আলো ও রোদে থাকার সময় কমে যাওয়ায় শরীরে ভিটামিন ডি-র মাত্রাও স্বাভাবিকভাবেই হ্রাস পায়। চিকিৎসকরা বলেন, শীতকালে আমরা প্রায়ই এমন রোগী দেখি, যারা হাঁটুর ব্যথা, পিঠে যন্ত্রণা বা পেশিতে অস্বাভাবিক ক্লান্তির অভিযোগ নিয়ে আসেন। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, এর মূল কারণ সূর্যালোকের অভাবে বেড়ে যাওয়া ভিটামিন ডি-র ঘাটতি।
তারা আরো জানান, ক্যালসিয়াম শোষণ ও হাড়ের গঠনে ভিটামিন ডি অত্যন্ত জরুরি। সূর্যালোকের মাধ্যমে শরীরে ভিটামিন ডি তৈরি কমে গেলে খাদ্য থেকেই সেই ঘাটতি পূরণ করতে হয়। শীতকালে কী খাবেন, তা ঠিক করে পরিকল্পনা করলেই এই সমস্যা অনেকটাই প্রতিরোধ করতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, স্যামন, ম্যাকারেল, সার্ডিন ও টুনা ভিটামিন ডি-র অন্যতম সমৃদ্ধ প্রাকৃতিক উৎস।
এ ছাড়া ফ্যাটি মাছ থেকে পাওয়া ভিটামিন ডি খুব সহজে শরীরে শোষিত হয় এবং জয়েন্ট ভালো রাখে, বিশেষ করে যাদের প্রাথমিক আর্থরাইটিস বা বয়সজনিত হাড় ক্ষয়ের সমস্যা রয়েছে।
ডিমের কুসুম
চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, ডিমের কুসুম ভিটামিন ডি-র একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে প্রয়োজনীয় ফ্যাটের পাশাপাশি নিয়মিত পরিমাণে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়।
ফোর্টিফায়েড খাবার
ভিটামিন ডি-যুক্ত (ফোর্টিফায়েড) দুধ, দই, সিরিয়াল ও উদ্ভিদভিত্তিক দুধের বিকল্পগুলো নিরামিষভোজীদের জন্য কার্যকর উৎস হিসেবে উঠে এসেছে। শীতকালে এই খাবারগুলো বিশেষভাবে উপযোগী।
যারা দিনের বেশিরভাগ সময় ঘরের ভেতরে কাটান, যেমন অফিস কর্মী, ছাত্রছাত্রী বা বয়স্ক মানুষ, তাদের জন্য ফোর্টিফায়েড খাবার ভিটামিন ডি পাওয়ার একটি কার্যকর উপায়।
অর্থোপেডিকরা জানান, কিছু বিশেষ ধরনের মাশরুম অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে এলে স্বাভাবিকভাবেই ভিটামিন ডি তৈরি করে। রোদে শুকনা মাশরুম তরকারি, স্যুপ বা স্টার-ফ্রাইয়ে ব্যবহার করা যেতে পারে।
তারা বলেন, এটি উদ্ভিদভিত্তিক ভিটামিন ডি-র বিরল প্রাকৃতিক উৎসগুলোর একটি, যা প্রাণিজ খাবার এড়িয়ে চলা মানুষের জন্য খুবই উপযোগী।
কড লিভার অয়েল ও দুগ্ধজাত খাবার
কড লিভার অয়েল ভিটামিন ডি-র অন্যতম উৎস। এ ছাড়া চিজ ও মাখনে অল্প পরিমাণে ভিটামিন ডি থাকে, যা রোজ খেলে উপকার হতে পারে। তার কথায়, সময়ে পরীক্ষা, খাদ্যাভ্যাসে সংশোধন ও সঠিক সাপ্লিমেন্টেশন ভবিষ্যতে হাড় ও জয়েন্টের জটিলতা প্রতিরোধ করতে পারে।
ভিটামিন ডি-র ঘাটতি শুধু হাড়ের সমস্যা নয়। এটি রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, এনার্জি লেভেল ও সামগ্রিক সুস্থতার ওপর প্রভাব ফেলে। তাই পুষ্টি ও চিকিৎসার মাধ্যমে শরীরকে আগে থেকেই সুরক্ষিত রাখা উচিত।