মঙ্গলবার, ০৯ জুন ২০২৬, ০২:৫৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আদিতমারীতে বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষ, ছুরিকাঘাতে কিশোর নিহত ড. ইউনূসসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করার আবেদন খারিজ পীরগঞ্জে মাদক ও জুয়ামুক্ত সমাজ গঠনে সেমিনার অনুষ্ঠিত রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও

বিয়ের পিঁড়ি থেকে আদালত: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে কনে বদল বিতর্ক

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী, ২০২৬
  • ৭৩ জন সংবাদটি দেখেছেন
বিয়ের পিঁড়ি থেকে আদালত: ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈলে কনে বদল বিতর্ক

হাসিমুখেই বিয়ের পিঁড়িতে বসেছিলেন যুবক। কিন্তু বাসরঘরে ঢুকেই যেন চরম বিস্ময়ের মুখে পড়েন তিনি। অভিযোগ উঠেছে, যাকে দেখে পছন্দ করে বিয়ে করেছিলেন, ঘোমটা খোলার পর দেখা যায় তিনি অন্য কেউ। কনে বদলের এমন চাঞ্চল্যকর অভিযোগকে ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ ও রাণীশংকৈল এলাকায় তীব্র আলোচনা চলছে।

ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁও জেলার রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকায়। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বিষয়টি গড়ায় মামলা-মোকদ্দমা হয়ে আদালত থেকে কারাগার পর্যন্ত। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১ আগস্ট রাণীশংকৈল উপজেলার ভান্ডার এলাকার জিয়ারুল হকের মেজো মেয়ের সঙ্গে পীরগঞ্জ উপজেলার চন্ডিপুর গ্রামের মৃত ইব্রাহীমের ছেলে রায়হান কবিরের বিয়ে হয়। তবে বিয়ের রাতেই বর ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে কনে বদলের অভিযোগ তোলা হয়।

ঘটনাটি সমাধানের লক্ষ্যে একাধিকবার দুই পরিবারের মধ্যে বৈঠক হলেও কোনো সুরাহা হয়নি। পরবর্তীতে গত বছরের ২৭ আগস্ট কনের বাবা জিয়ারুল হক বর রায়হান কবির ও তার দুলাভাই মানিক হাসানকে আসামি করে ঠাকুরগাঁও আদালতে একটি মামলা করেন। এর পাল্টা জবাবে ২ সেপ্টেম্বর রায়হান কবির কনের বাবা জিয়ারুল হক ও ঘটক মোতালেবের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করেন।

উভয়পক্ষের দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে সোমবার (১৯ জানুয়ারি) আদালত রায়হান কবিরের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

বর রায়হান কবিরের মামা বাদল সাংবাদিকদের জানান, ঘটক মোতালেবের মাধ্যমে রায়হানের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। জুলাই মাসের শেষ দিকে রাণীশংকৈল উপজেলার শিবদিঘী এলাকার একটি চায়ের দোকানে ঘটক একটি মেয়েকে দেখান। মেয়েটিকে পাত্র ও তার স্বজনরা পছন্দ করলে তা ঘটককে জানানো হয়। পরে মেয়েপক্ষের লোকজন ছেলেপক্ষের বাড়িতে গিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দেন এবং নতুন করে মেয়ে না দেখিয়েই দ্রুত বিয়ে সম্পন্ন করার অনুরোধ জানান।

তিনি আরও জানান, রায়হান কবিরের দুলাভাই মানিক হাসান মালয়েশিয়া প্রবাসী হওয়ায় দ্রুত বিয়ের আয়োজন সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ১ আগস্ট রাত ১১টার দিকে দুটি মাইক্রোবাসে করে বরযাত্রীদের নিয়ে তারা মেয়ের বাড়িতে যান। আনুষ্ঠানিকতা শেষে ভোর ৪টার দিকে সবাই নিজ বাড়িতে ফেরেন।

বাদলের অভিযোগ, অতিরিক্ত মেকআপের কারণে বিয়ের রাতে কনে বদলের বিষয়টি ধরা পড়েনি। তবে বাসর রাতে মুখ ধোয়ার পর রায়হান বুঝতে পারেন, যাকে তিনি বিয়ে করেছেন তিনি আগে দেখানো সেই মেয়ে নন। পরিকল্পিতভাবে পাত্রী বদল করা হয়েছে দাবি করে ২ আগস্ট মেয়েটিকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা প্রতারণার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কনের বাবা জিয়ারুল হক বলেন, তার কোনো ছেলে সন্তান নেই। তিন মেয়ের মধ্যে বড় মেয়ের বিয়ে হয়েছে। মেজো মেয়ে জেমিন আক্তার রাণীশংকৈল মহিলা কলেজের উচ্চ মাধ্যমিক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বিয়ের আগে ছেলেপক্ষ তাদের বাড়িতে এসে মেয়েকে দেখে গিয়েছিল। বিয়ের অনুষ্ঠানে প্রায় ৭০ জন বরযাত্রী উপস্থিত ছিলেন। এমন পরিস্থিতিতে কনে বদলের অভিযোগ বিশ্বাসযোগ্য নয়।

জিয়ারুল হকের দাবি, এটি সম্পূর্ণ সাজানো নাটক। বিয়ের পর ছেলেপক্ষ ১০ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করে। তিনি জমি বিক্রি করে টাকা দেওয়ার জন্য সময় চাইলেও তারা সময় দেয়নি। সে কারণেই তার মেয়ের বিরুদ্ধে অপবাদ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ঘটক মোতালেবও কনে বদলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি কোনো ভুল মেয়ে দেখাননি। মেয়েটিকে বাড়িতেই দেখানো হয়েছিল এবং পরবর্তী সব সিদ্ধান্ত দুই পক্ষ নিজেদের মধ্যে নিয়েছে।

এ বিষয়ে ঠাকুরগাঁও আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও ছেলেপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিন বলেন, ছেলেপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী মেয়েপক্ষ ও ঘটক মিলেই কনে বদলের মাধ্যমে প্রতারণা করেছে। শুরুতে মীমাংসার শর্তে রায়হান কবির জামিনে ছিলেন। কিন্তু কোনো সমাধান না হওয়ায় বিষয়টি এখন বিচারাধীন। আদালতের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com