কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় অতিরিক্ত ভার বহনকারী ইটবোঝাই একটি ট্রাকের চাপে সোনাহাট সেতুর পাটাতন ভেঙে পড়েছে। এতে সেতু দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। হঠাৎ এ ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, যাত্রী ও ব্যবসায়ীরা।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ভোর প্রায় ৬টার দিকে সোনাহাট স্থলবন্দরের দিকে যাওয়ার সময় দুধকুমার নদের ওপর নির্মিত সোনাহাট সেতুর স্টিল অংশে ওঠে ইটবোঝাই ট্রাকটি। সেতুর ওপর উঠতেই অতিরিক্ত ওজনের চাপ সহ্য করতে না পেরে একটি পাটাতন ভেঙে যায় এবং ট্রাকটি সেখানে দেবে যায়। এর পরপরই সেতু দিয়ে যান চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে পড়ে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, সেতুটির সর্বোচ্চ লোড ধারণক্ষমতা মাত্র ১০ টন। অথচ দুর্ঘটনাকবলিত ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন ইট পরিবহন করা হচ্ছিল। ধারণক্ষমতার প্রায় চার গুণ বেশি ওজন বহনের কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পর সেতুর দুই পাশে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়। বাধ্য হয়ে জরুরি প্রয়োজনে অনেক মানুষ নৌকায় করে দুধকুমার নদ পারাপার করছেন।
ইতিহাস ঘেঁটে জানা যায়, ব্রিটিশ আমলে ১৮৮৭ সালে লালমনিরহাট থেকে ভারতের গৌহাটি পর্যন্ত রেলপথ নির্মাণের অংশ হিসেবে দুধকুমার নদের ওপর প্রায় ১২০০ ফুট দীর্ঘ সোনাহাট রেলসেতু নির্মিত হয়। মুক্তিযুদ্ধকালে পাকিস্তানি বাহিনীর অগ্রযাত্রা ঠেকাতে সেতুর একটি অংশ ধ্বংস করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় অচল থাকার পর এরশাদ সরকারের সময়ে সেতুটি মেরামত করা হয়। এরপর ভূরুঙ্গামারীর চরভূরুঙ্গামারী, বঙ্গসোনাহাট, বলদিয়া, তিলাই ও পাইকেরছড়া ইউনিয়নের অংশবিশেষ এবং নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা, কেদার, বল্লভেরখাস ও মাদারগঞ্জ ইউনিয়নের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু হয়।
দীর্ঘদিন ধরে মেয়াদোত্তীর্ণ এই সেতু দিয়ে ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করে আসছে ভারী ও হালকা যানবাহন। এর আগেও একাধিকবার পাটাতন দেবে যাওয়া ও ভাঙনের ঘটনা ঘটেছে। জীবিকার প্রয়োজনে স্থানীয় মানুষ বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ এই সেতু ব্যবহার করায় ভোগান্তি যেন নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে স্থলবন্দরকেন্দ্রিক ব্যবসায়ীদের জন্য।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন জানান, ওভারলোডের ঘটনায় সাধারণত মামলা দায়ের না হলেও জরিমানা আরোপের বিধান রয়েছে।
কুড়িগ্রাম সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মীর নিজাম উদ্দিন আহমেদ বলেন, সেতুটির অনুমোদিত ধারণক্ষমতা ১০ টন হলেও ট্রাকটিতে প্রায় ৩৯ টন মালামাল বহন করা হচ্ছিল। অতিরিক্ত ওজনের কারণেই পাটাতন ভেঙে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ট্রাকের মালিক ও ইট ক্রয়কারী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।