আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মসজিদের গ্যারেজে মোটরসাইকেল রাখার ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে ভাংচুরের অভিযোগ উঠেছে পীরগঞ্জ উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি আরিফ খন্দকারের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মোটরসাইকেল গ্যারেজে রাখা এবং ভাড়া পরিশোধকে কেন্দ্র করে গ্যারেজের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তির সঙ্গে আরিফ খন্দকারের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে গালিগালাজের ঘটনাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে ক্ষুব্ধ হয়ে গ্যারেজের সাইনবোর্ড ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিওতে দেখা যায় শিবির নেতা আরিফ খন্দকার প্রচন্ড রেগে গিয়ে ইলেক্ট্রিক লাঠি দিয়ে গ্যারেজেরে সাইনর্বোডে মারতে থাকে ।

গ্যারেজ এর দায়িত্বে থাকা নজরুল ইসলাম বলেন তুচ্ছ একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে অতর্কিতভাবে হামলা চালিয়ে গ্যারেজে ভাংচুর করা হয়েছে। গ্যারেজ বাবদ প্রত্যেক মাসে ৫ হাজার টাকা মসজিদে দেই এবং সিকিউরিটি বাবদ ২ লাখ টাকা দেয়া আছে এবং ওই ছেলে আমাকে চাঁদাবাজসহ অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছে। আমি নাকি সিন্ডিকেট করে টাকা নিচ্ছি, আমি আর গ্যারেজ চালাবো না।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আরিফ খন্দকার বলেন, হাসপাতাল মসজিদের গ্যারেজে মোটরসাইকেল রেখে ডাক্তার দেখাই এবং পরে গ্যারেজ থেকে মোটরসাইকেল নিতে গেলে ২০ টাকা চান গ্যারেজ মালিক ।
শিবির নেতা আরিফ আরো বলেন ১০ মিনিটের জন্যও ২০ টাকা দিতে হবে পরে পুরো ৫০ টাকাই দেই এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং পরে তাকে মারধর করা হয় বলেও তিনি দাবি করেন। পরে আরিফ খন্দকার নিজ নামীয় ফেসুকের ভিডিও বার্তায় ঘটনার বর্নণা দেন ।
আর মসজিদ কমিটির দায়িত্বে থাকা ওমর ফারুক সোহেল নামের একজন জানান কোনো কিছু না জেনে সিন্ডিকেট বলা ঠিক নয়, গ্যারেজের টাকা মসজিদের কাজে ব্যবহার করা হয় ।
এ বিষয়ে পীরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাসুদ মিয়া জানান, হাসপাতাল চত্বরে যানবাহন নিরাপদ রাখতে গ্যারেজটি পরিচালিত হয় এবং এর আয় হাসপাতাল মসজিদের উন্নয়নে ব্যয় করা হয়।
পীরগঞ্জ থানার ওসি নজমুল হক বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এ ঘটনায় এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পরই রংপুর-৬ পীরগঞ্জ আসনের এমপি মাওলানা নুরুল আমীন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ।