যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে
সবশেষ আপডেট :
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
১৪
জন সংবাদটি দেখেছেন
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে চাচাতো ভাইয়ের প্রেমিকা ও তার চার বছরের কন্যাকে হত্যার দায়ে দোষী সাব্যস্ত এক ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
৪৭ বছর বয়সী রিচার্ড নাইটকে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ফ্লোরিডা স্টেট প্রিজনে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০০২ সালের জুনে রিচার্ড নাইট ওডেসিয়া স্টিফেনস এবং তার চার বছর বয়সী কন্যা হ্যানেসিয়া মালিংসকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করেন। এ ঘটনায় তাকে প্রথম-ডিগ্রি হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় নাইটের শরীরে আইভি লাইন সংযুক্ত করা হয়। ওষুধ প্রয়োগের পর তিনি চোখ বন্ধ করে স্থির হয়ে থাকেন। প্রায় ১০ মিনিট পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
চলতি বছরে ফ্লোরিডায় এটি সপ্তম মৃত্যুদণ্ড কার্যকর। ২০২৫ সালে অঙ্গরাজ্যটিতে মোট ১৯টি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছে, যা ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুদণ্ড পুনর্বহালের পর এক বছরে সর্বোচ্চ বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
রিপাবলিকান গভর্নর Ron DeSantis-এর আমলে ফ্লোরিডায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এর আগে ২০১৪ সালে এক বছরে সর্বোচ্চ আটটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয়েছিল।
আদালতের তথ্য অনুযায়ী, রিচার্ড নাইট তার চাচাতো ভাইয়ের পরিবারের সঙ্গে কোরাল স্প্রিংসে বসবাস করতেন। সেখানে থাকা নিয়ে প্রায়ই ওডেসিয়া স্টিফেনসের সঙ্গে তার বিরোধ হতো। ঘটনার দিন স্টিফেনস তাকে বাসা ছাড়তে বললে ক্ষিপ্ত হয়ে তিনি মা ও শিশুকন্যাকে হত্যা করেন।
নিহত শিশুটির বাবা হ্যান্স মালিংস মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পর বলেন, “এই যন্ত্রণা কখনো শেষ হয় না। আমরা এখনো তাদের খুব মিস করি।”
এদিকে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট রিচার্ড নাইটের শেষ আপিল খারিজ করে দেয়। একই সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনাতেও আরেকটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, অঙ্গরাজ্যটিতে সাধারণত তিন ধরনের ওষুধ ব্যবহার করে প্রাণঘাতী ইনজেকশনের মাধ্যমে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।