আগামী ১২ আগস্ট আকাশে দেখা মিলবে বিরল এক পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের। আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বিজ্ঞান ইউনিয়ন (IAU), মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা (NASA) এবং ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার (ESA) তথ্য অনুযায়ী, এদিন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেওয়ায় পৃথিবীর কিছু অঞ্চল থেকে সূর্য সম্পূর্ণরূপে আড়াল হয়ে যাবে।
জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর বিশ্বজুড়ে সাধারণত দুই থেকে পাঁচটি সূর্যগ্রহণ ঘটে। তবে পৃথিবীর নির্দিষ্ট কোনো স্থান থেকে একটি পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখার সুযোগ গড়ে প্রায় ৩৭৫ বছর পর আসে। সর্বশেষ পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ হয়েছিল ২০২৪ সালের ৮ এপ্রিল, যা ‘গ্রেট নর্থ আমেরিকান এক্লিপ্স’ নামে পরিচিত।
দীর্ঘ ২৭ বছর পর এবার ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকেও পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। এর আগে ১৯৯৯ সালের ১১ আগস্ট ইউরোপে সর্বশেষ এমন ঘটনা ঘটেছিল।
নাসা ও ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণের মূল পথ গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, উত্তর রাশিয়া, আটলান্টিক মহাসাগর এবং স্পেনের ওপর দিয়ে অতিক্রম করবে। এছাড়া পর্তুগালের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি ছোট অংশ থেকেও পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা থেকে উত্তর ক্যারোলিনা, কানাডা, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড, স্ক্যান্ডিনেভিয়ান অঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিস্তীর্ণ এলাকা থেকে আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। ইউরোপ ও আফ্রিকার পশ্চিম উপকূলে সূর্যাস্তের সময় গ্রহণ চলমান থাকায় সেখানে বিরল ‘সূর্যাস্ত সূর্যগ্রহণ’-এর দৃশ্যও উপভোগ করা যাবে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, চাঁদের মূল অন্ধকার ছায়া বা ‘আমব্রা’ পৃথিবীর ওপর প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি পথ তৈরি করবে। গ্রহণটি গ্রিনিচ মান সময় বিকেল ৫টার দিকে আর্কটিক অঞ্চল থেকে শুরু হয়ে পূর্ব গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, আটলান্টিক মহাসাগর অতিক্রম করে স্পেন ও পর্তুগালের উত্তরাঞ্চল হয়ে ভূমধ্যসাগরের বালিয়ারিক দ্বীপপুঞ্জে সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।
জ্যোতির্বিষয়ক ওয়েবসাইট আর্থস্কাই জানিয়েছে, এ গ্রহণের সর্বোচ্চ স্থায়িত্ব হবে ২ মিনিট ১৮ দশমিক ২ সেকেন্ড। আইসল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের কাছাকাছি ডেনমার্ক প্রণালিতে এই সময়ের পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে। গ্রিনল্যান্ডে সর্বোচ্চ ২ মিনিট ১৬ সেকেন্ড, আইসল্যান্ডের রাজধানী রেইকিয়াভিকে ১ মিনিট ৪১ সেকেন্ড এবং স্পেনের বিভিন্ন স্থানে ১ মিনিট থেকে ১ মিনিট ৪৯ সেকেন্ড পর্যন্ত পূর্ণগ্রাস স্থায়ী হতে পারে।
নাসার তথ্য অনুযায়ী, পূর্ণগ্রাসের মূল পথের ভেতরের অঞ্চলগুলোতে সূর্য শতভাগ আড়াল হয়ে যাবে। এর বাইরে বিস্তীর্ণ এলাকায় বিভিন্ন মাত্রার আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।
শতভাগ পূর্ণগ্রাস দেখা যাবে আইসল্যান্ডের রেইকিয়াভিক, স্পেনের বিলবাও, জারাগোজা, ওভিয়েডো, লা করুনা, ভ্যালেন্সিয়ার কিছু অংশ, পালমা দ্বীপ, গ্রিনল্যান্ডের পূর্ব উপকূল, রাশিয়ার উত্তরাঞ্চল এবং পর্তুগালের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত এলাকায়।
এছাড়া যুক্তরাজ্যের কর্নওয়াল, ফ্রান্সের প্যারিস, পর্তুগালের লিসবন ও মরক্কোর উত্তরাঞ্চল থেকে প্রায় ৯০ শতাংশ সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে। জার্মানি, ইতালি, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশগুলোতে প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত সূর্য আড়াল হবে। অন্যদিকে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ও পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে।