সোমবার, ০৮ জুন ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
রোগী হয়রানির অভিযোগে দালালকে দিয়ে ড্রেন পরিষ্কার করালো ছাত্রদল ছয় দফা দাবিতে রংপুরে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি ও মানববন্ধন মিঠাপুকুরে বিষাক্ত অ্যালকোহল পানে ৫ মৃত্যুর ঘটনায় দুই আসামি গ্রেপ্তার নির্বাচিত হওয়ার একদিন পরই বিসিবির পরিচালক পদ থেকে পদত্যাগ মীর শাকরুল আলম সীমান্তের কর্ণফুলী নদী থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার বাজেটের অর্থ অপচয়ের অধিকার কাউকে দেয়নি জনগণ: চরমোনাই পীর সৈয়দপুরে লাশ নিয়ে এলাকাবাসীর থানা ঘেরাও ১১ জেলায় দুপুরের মধ্যে ঝড়-বৃষ্টির আভাস, নদীবন্দরে ১ নম্বর সতর্কসংকেত কুষ্টিয়ায় আরবি লেখা কাপড় ঘিরে রহস্য, এলাকায় চাঞ্চল্য পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কড়া বার্তা উত্তর কোরিয়ার

মির্জাপুর শাহী মসজিদ সংস্কারে ইরান থেকে এসেছিল কারিগর!

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ১ মার্চ, ২০২৬
  • ৬৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

মাজহাবিন মৌ: উত্তরের জনপদ পঞ্চগড়ের নিভৃত গ্রামে শতাব্দীর সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে ইতিহাসের এক নীরব প্রহরী মির্জাপুর শাহী মসজিদ। সময়ের বহু ঝড়-ঝঞ্ঝা পেরিয়ে আজও তার দেয়ালে লেগে আছে মুঘল আমলের ছাপ।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার মির্জাপুর গ্রামে অবস্থিত এই প্রাচীন মসজিদটি দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত। গ্রামটির নাম অনুসারেই এর নামকরণ করা হয়েছে মির্জাপুর শাহী মসজিদ।

মসজিদটির নির্মাণকাল নিয়ে নির্দিষ্ট কোনো শিলালিপিতে সাল-তারিখ উল্লেখ নেই। তবে ফারসি ভাষায় খচিত একটি শিলালিপি বিশ্লেষণ করে প্রত্নতত্ত্ববিদরা ধারণা করেন, এটি সম্ভবত ১৬৫৬ খ্রিস্টাব্দে নির্মিত হয়। ইতিহাসবিদদের মতে, মুঘল শাসক শাহ সুজা এর শাসনামলে মসজিদটি নির্মাণ করা হয়।

তবে নির্মাতা নিয়ে রয়েছে মতভেদ। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মালিক উদ্দিন নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি মসজিদটি নির্মাণ করেন এবং তিনিই মির্জাপুর গ্রাম প্রতিষ্ঠা করেন। আবার অন্য একটি মত অনুযায়ী, দোস্ত মোহাম্মদ নামে এক ব্যক্তি নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেন।

স্থাপত্য বৈশিষ্ট্যের দিক থেকেও মসজিদটি অনন্য। প্রায় ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য ও ২৫ ফুট প্রস্থের এ স্থাপনাটির সামনের দেয়ালে রয়েছে নান্দনিক চিত্রাঙ্কন ও সূক্ষ্ম কারুকার্য। একই সারিতে স্থাপিত তিনটি গম্বুজ মুঘল স্থাপত্যশৈলীর পরিচয় বহন করে। প্রতিটি কোণায় রয়েছে মিনার, যা মসজিদটির সৌন্দর্যকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

এক সময়ের ভয়াবহ ভূমিকম্পে মসজিদের কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরবর্তীতে ইরান থেকে কারিগর এনে সংস্কার কাজ সম্পন্ন করা হয় বলেও প্রচলিত রয়েছে।

শতাব্দী পেরিয়ে আজও মির্জাপুর শাহী মসজিদ শুধু একটি ধর্মীয় উপাসনালয় নয়, এটি আমাদের ইতিহাস, স্থাপত্য ও সংস্কৃতির এক মূল্যবান দলিল।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© All rights reserved © 2025 rnbnews24
Theme Download From ThemesBazar.Com