রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলায় নেশাজাতীয় অ্যালকোহল পান করে তিনজনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আরও একজন গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সোমবার (১ জুন) সকালে উপজেলার বালারহাট ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে।
মৃতরা হলেন, কাফ্রিখাল ইউনিয়নের সাতভেন্টি এনায়েতপুর গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে ছাত্তার মিয়া (৬০), বুজরুক ঝালই এলাকার মৃত মতিয়ার মিয়ার ছেলে হুজুর আলী (৪৫) এবং সংগ্রামপুর বেলতলা এলাকার মৃত কফুর উদ্দিনের ছেলে মো. সাজু মিয়া (৫৫)।
অসুস্থ ব্যক্তি হলেন বুজরুক ঝালই পাকারমাথা এলাকার মৃত সুলতান আলীর ছেলে এরশাদ মিয়া (৪০)।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩১ মে) রাতে বালারহাট বাজারে কয়েকজন ব্যক্তি নিষিদ্ধ অ্যালকোহল পান করেন। পরে তারা নিজ নিজ বাড়িতে ফিরে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাদের মধ্যে একজনের বাড়িতে এবং অপর দুইজনের হাসপাতালে মৃত্যু হয়।
জানা যায়, হুজুর আলী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। হাসপাতালের প্রতিবেদনে তার মৃত্যুর কারণ হিসেবে ‘কার্ডিয়াক অ্যাটাক’ উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে অসুস্থ হয়ে পড়ার পর ছাত্তার মিয়ার মৃত্যু হয় তার বসবাসস্থল কয়ারমারি গুচ্ছগ্রামে। পরে তার মরদেহ এনায়েতপুর সাতভেন্টি এলাকায় বোনের বাড়িতে নেওয়া হয়। এছাড়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজু মিয়া।
বালারহাট ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সুজা মিয়া বলেন, রোববার রাতে তারা কোনো এক সময় রেকটিফায়েড স্পিরিট পান করে বাড়িতে ফিরে যান। সকালে ছাত্তার মিয়ার মৃত্যু হয় এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যান হুজুর আলী। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান সাজু মিয়া। বর্তমানে এরশাদ মিয়া অসুস্থ অবস্থায় রয়েছেন।
এ ঘটনা জানাজানি হলে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। বালারহাট ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মহিদুল ইসলাম দাবি করেন, মদ্যপানের কারণেই তাদের মৃত্যু হয়েছে। তবে মরদেহের ময়নাতদন্ত এড়াতে পরিবারের পক্ষ থেকে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
মিঠাপুকুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর হোসেন বলেন, হাসপাতালে এ ধরনের কোনো রোগী ভর্তি হওয়ার তথ্য তাদের কাছে নেই।
মিঠাপুকুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদ আহমেদ বলেন, হুজুর আলী নামের একজনের হাসপাতালে কার্ডিয়াক অ্যাটাকে মৃত্যু হয়েছে। অপর দুজনের মৃত্যু মদ্যপানের কারণে হয়েছে কি না, তা এখনও নিশ্চিত নয়। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. পারভেজ বলেন, মদ্যপানে মৃত্যুর খবর পেয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদঘাটনে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্নের চেষ্টা চলছে।