রংপুরে এক ব্যবসায়ীকে অপহরণ করে জমি বিক্রির বায়নাপত্র ছিনিয়ে নেওয়া এবং জীবননাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের কয়েকজন নেতার বিরুদ্ধে।
মঙ্গলবার (২৩ জুন) দুপুরে নগরীর সুমি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মাহিগঞ্জ এলাকার ব্যবসায়ী আলাল হোসেন এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, পীরগাছা উপজেলার বড়দরগাহ বাজার এলাকায় সাড়ে তিন শতক জমি কেনার জন্য ফুল মিয়া নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকায় বায়না চুক্তি সম্পন্ন করেন। তবে নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পর সম্পূর্ণ অর্থ পরিশোধ করে জমির দলিল সম্পাদনের উদ্যোগ নিলে জমির মালিক ফুল মিয়া দলিল দিতে অস্বীকৃতি জানান।
আলাল হোসেনের দাবি, বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে অন্যত্র জমি বিক্রি করে তার বায়নার টাকা ফেরত দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরবর্তীতে কল্যাণী ইউনিয়ন বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি শামসুল আলম, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুমন চৌধুরী, কল্যাণী ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক রুবেল রানা, ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাফিউল ইসলাম রনি এবং মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য রিয়াদ তুহিন তার সঙ্গে যোগাযোগ করে বায়নার টাকা আদায়ে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
সংবাদ সম্মেলনে আলাল হোসেন দাবি করেন, একপর্যায়ে তাকে যুবদল নেতা রুবেল রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তার কাছ থেকে জমির বায়না চুক্তিপত্র ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ১৮ লাখ টাকার পরিবর্তে ৮ লাখ টাকায় বিষয়টি মীমাংসা করার জন্য চাপ দেওয়া হয়।
তিনি বলেন, প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
আলাল হোসেন আরও অভিযোগ করেন, এ বিষয়ে মাহিগঞ্জ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং অভিযুক্তরা অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য তাকে ও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে চাপ ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বায়নাকৃত ১৮ লাখ ৫ হাজার টাকা আদায়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেন। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে সংযুক্ত করা হবে।
উল্লেখ্য, অভিযোগের বিষয়টি এখনো আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তাধীন রয়েছে। অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।