রংপুর নগরীর আদর্শপাড়া এলাকায় ৬০ শতাংশ জমির মালিকানা ও সীমানা নির্ধারণ সংক্রান্ত দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে আদালতের চূড়ান্ত ডিক্রি পাওয়ার পরও জমির দখল বুঝে না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ওমেজা বেগম।
বৃহস্পতিবার রংপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
লিখিত বক্তব্যে ওমেজা বেগম জানান, তার মা উম্মে হানী বেগম ১৯৫৮ সালে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে মরহুম আব্দুল জব্বারের কাছ থেকে ৬০ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালে ওই জমি একটি বাটোয়ারা দলিলে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও তিনি দাবি করেন, বাটোয়ারা দলিলটি বেআইনি ও অকার্যকর।
এ বিষয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে জেলা জজ আদালত তার পক্ষে রায় দেন। পরে জমির সীমানা নির্ধারণ ও দখল নিশ্চিত করতে যুগ্ম জেলা জজ আদালতে পৃথক মামলা দায়ের করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত প্রথমে প্রাথমিক ডিক্রি এবং পরে ২০২৪ সালের ১৮ নভেম্বর চূড়ান্ত ডিক্রি প্রদান করেন।
ওমেজা বেগমের অভিযোগ, আদালতের রায় বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিপক্ষ বিভিন্নভাবে বাধা সৃষ্টি করে এবং তাকে হুমকি-ধমকি দেয়। পরবর্তীতে আদালতের নির্দেশে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে দখল কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেন।
তিনি বলেন, এ সময় স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুরের মধ্যস্থতায় উভয় পক্ষকে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য সাত দিনের সময় দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, চূড়ান্ত ডিক্রি জারির পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিবাদীপক্ষ উচ্চ আদালতে কোনো আপিল করেনি। এরপরও তিনি আদালতের রায় অনুযায়ী জমির দখল বুঝে পাচ্ছেন না। এ অবস্থায় তিনি বিষয়টির দ্রুত ও সুষ্ঠু সমাধানে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাবেক কাউন্সিলর মনজুরুল ইসলাম মঞ্জুর বলেন, “ওই জমিতে আমার ভাতিজি ও ভাইয়ের বাড়ি রয়েছে, তবে সে কারণে আমার কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। বাদীপক্ষ শুক্রবার আমার সঙ্গে কাগজপত্র নিয়ে বসতে চেয়েছে। উভয় পক্ষের নথিপত্র যাচাই-বাছাই করে পরে তাদের নিয়ে আলোচনায় বসবো।”
জমি নিয়ে বিরোধের বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।