পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় একসঙ্গে সাফল্য অর্জন করেছেন যমজ দুই বোন—পূজা রানী রায় ও পলি রানী রায়। দুই বোনের এমন কৃতিত্বে পরিবারসহ পুরো এলাকায় আনন্দ ও গর্বের আবহ তৈরি হয়েছে।
গত ১৪ ডিসেম্বর প্রকাশিত ২০২৫–২৬ শিক্ষাবর্ষের মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার ফলাফলে পূজা রানী রায় কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজে এবং পলি রানী রায় নীলফামারী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। পূজা ও পলির বাড়ি পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ উপজেলার দণ্ডপাল ইউনিয়নের খগের হাট এলাকায়। তাদের বাবা ভূপেন্দ্র নাথ রায় একজন কৃষক এবং মা শান্তনা রানী মহন্ত বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা।
দুই বোনের শিক্ষাজীবনের শুরু বিনয়পুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। পরে তারা বিনয়পুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক এবং ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য তারা রংপুরের একটি কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ নেন।
শিক্ষাজীবনে পূজা ও পলি দুজনই ধারাবাহিক কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন। তারা এসএসসি ও এইচএসসি—উভয় পরীক্ষায় গোল্ডেন প্লাস অর্জনের পাশাপাশি ট্যালেন্টপুল বৃত্তি লাভ করেন। পলি রানী রায় ২০২৩ সালে বৃত্তিসহ উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষার্থী নির্বাচিত হন। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানিয়ে পূজা রানী রায় বলেন, তিনি একজন কার্ডিওলজিস্ট হতে চান। অপরদিকে পলি রানী রায়ের স্বপ্ন গাইনোকোলজিস্ট হওয়ার।
২০০৬ সালের ১৫ জুলাই জন্ম নেওয়া এই যমজ বোনদের বড় বোন যুক্তি রানী রায় বর্তমানে যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিজ্ঞান বিভাগে তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়নরত। একসঙ্গে দুই মেয়ের সাফল্যে আবেগাপ্লুত মা–বাবা বলেন, “পরিশ্রম, ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ফলেই আজ তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে। আমরা গর্বিত।”
উল্লেখ্য, চলতি শিক্ষাবর্ষে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নেন ১ লাখ ২০ হাজার ৪৪০ জন পরীক্ষার্থী। এর মধ্যে সরকারি মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস কোর্সে ৫ হাজার ১০০ জন এবং বিডিএস কোর্সে ৫৪৫ জন ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন।