আরএনবি অনলাইন ডেস্কঃ বঙ্গোপসাগরে মাঝারি পাল্লার সাবমেরিন‑লঞ্চড ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (এসএলবিএম) কেএ–৪–এর পরীক্ষা চালিয়েছে ভারত। দেশটির পরমাণু শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন আইএনএস অরিঘাত থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনম উপকূলের কাছে এ পরীক্ষা চালানো হয়। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি দেয়নি। সূত্রের বরাতে টাইমস অব ইন্ডিয়া এ তথ্য জানিয়েছে। সূত্র জানায়, কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কিলোমিটার। এটি দুই থেকে আড়াই টন ওজনের পারমাণবিক বিস্ফোরক বহনে সক্ষম। পরীক্ষাটি নির্ধারিত প্রযুক্তিগত মানদণ্ড ও মিশন লক্ষ্য পূরণ করেছে কি না—তা বিস্তারিতভাবে বিশ্লেষণ করা হবে বলেও সূত্র উল্লেখ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণযোগ্য ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রকে পূর্ণাঙ্গ অপারেশনাল পর্যায়ে নিতে একাধিক পরীক্ষা প্রয়োজন। এর আগে ডুবো প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সাবমার্সিবল পন্টুন থেকে একাধিক পরীক্ষা চালানোর পর গত বছরের নভেম্বরে প্রথমবার আইএনএস অরিঘাত থেকে কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা করা হয়। কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রটি ভারতের স্থলভিত্তিক অগ্নি–৩ ক্ষেপণাস্ত্রের নকশা থেকে উদ্ভূত এবং অরিহন্ত‑শ্রেণির পারমাণবিক সাবমেরিন থেকে উৎক্ষেপণের উপযোগী করে পরিবর্তিত। এটি বর্তমানে ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘ পাল্লার সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্র। আইএনএস অরিঘাত ভারতের দ্বিতীয় পারমাণবিক শক্তিচালিত ব্যালিস্টিক মিসাইল সাবমেরিন (এসএসবিএন)। গত বছরের ২৯ আগস্ট এটি নৌবাহিনীতে কমিশন করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালে অপারেশনাল হওয়া আইএনএস আরিহন্ত কেবল ৭৫০ কিলোমিটার পাল্লার কেএ–১৫ ক্ষেপণাস্ত্র বহনে সক্ষম ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেএ–৪ ক্ষেপণাস্ত্রের অপারেশনাল মোতায়েন ভবিষ্যতে ৫ হাজার থেকে ৬ হাজার কিলোমিটার পাল্লার কেএ–৫ ও কেএ–৬ ক্ষেপণাস্ত্র অন্তর্ভুক্ত করার পথ প্রশস্ত করবে। এর মাধ্যমে ভারতের সমুদ্রভিত্তিক পারমাণবিক সক্ষমতা আরও জোরদার হবে। তাঁরা আরও বলেন, এসএসবিএন প্ল্যাটফর্ম ভারতের পারমাণবিক প্রতিরোধ কৌশলের সবচেয়ে বিশ্বাসযোগ্য অংশ। গোপনীয়তা, টিকে থাকার সক্ষমতা এবং নিশ্চিত প্রতিশোধমূলক আঘাতের ক্ষেত্রে এগুলো সবচেয়ে কার্যকর—যা ভারতের ‘নো ফার্স্ট ইউজ’ নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ।