সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

রোজা দেহকে সংযত করে, কোরআন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে

  • সবশেষ আপডেট : সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬
  • ৭৩ জন সংবাদটি দেখেছেন

পবিত্র কোরআন শুধু একটি ধর্মগ্রন্থ নয়; এটি মুমিনের জীবনবিধান, হৃদয়ের প্রশান্তি এবং আখিরাতের মুক্তির পথনির্দেশ। কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক শুধু বোঝার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং তিলাওয়াতের মাধ্যমেও বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। মহান আল্লাহ নিজেই এ কিতাবকে করেছেন বরকতময়, আর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মতকে শিখিয়েছেন—কোরআনের প্রতিটি অক্ষরই সওয়াবের ভাণ্ডার। এই প্রেক্ষাপটেই সাহাবায়ে কেরাম কোরআন তিলাওয়াতকে শুধু ইবাদত নয়, বরং জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন।

عَنْ عَبْدَ اللَّهِ بْنَ مَسْعُودٍ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ مَنْ قَرَأَ حَرْفًا مِنْ كِتَابِ اللَّهِ فَلَهُ بِهِ حَسَنَةٌ وَالْحَسَنَةُ بِعَشْرِ أَمْثَالِهَا لاَ أَقُولُ الم حَرْفٌ وَلَكِنْ أَلِفٌ حَرْفٌ وَلاَمٌ حَرْفٌ وَمِيمٌ حَرْفٌ ‏”‏

আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসsলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ তাআলার কিতাবের একটি হরফ যে ব্যক্তি পাঠ করবে তার জন্য এর সাওয়াব আছে। আর সাওয়াব হয় তার দশ গুণ হিসেবে। আমি বলি না যে, আলিফ-লাম-মীম একটি হরফ, বরং আলিফ একটি হরফ, লাম একটি হরফ এবং মীম একটি হরফ। (তিরমিজি, হাদিস : ২৯১০)

এই হাদিস আমাদের সামনে কোরআনের প্রতি আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহের এক বিস্ময়কর দিক উন্মোচন করে।

এখানে শুধু অর্থ বোঝার কথা নয়, বরং উচ্চারণের প্রতিটি অক্ষরেও রয়েছে সওয়াব। অর্থাৎ কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক যত ঘনিষ্ঠ হবে, ততই সওয়াবের দরজা উন্মুক্ত হবে। এমনকি যে ব্যক্তি ধীরে ধীরে শিখছে, তারও প্রতিটি হরফ মূল্যবান। আলিফ আলাদা, লাম আলাদা, মীম আলাদা—এভাবে প্রতিটি ধ্বনি আল্লাহর কাছে গুণিতক পুরস্কারের কারণ।
এই শিক্ষার সঙ্গে রমজানুল মোবারকের রয়েছে গভীর সম্পর্ক। রমজান হলো সেই মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল হয়েছে—“শাহরু রামাদানাল্লাযী উনযিলা ফিহিল কুরআন…” (সূরা বাকারা, আয়াত: ১৮৫)। তাই রমজান মূলত কোরআনের মাস। সাহাবায়ে কেরাম ও সালাফে সালেহীন রমজানে কোরআন তিলাওয়াতে বিশেষ গুরুত্ব দিতেন। কেউ কেউ একাধিকবার খতম দিতেন।

কারণ তারা জানতেন, এই মাসে নেক আমলের সওয়াব বহুগুণ বৃদ্ধি করা হয়। তখন একটি হরফের দশ গুণ সওয়াব আরও অধিক বরকতময় হয়ে ওঠে।রমজান মানুষকে তাকওয়ার পথে পরিচালিত করে, আর কোরআন সেই তাকওয়ার দিশারি। রোজা দেহকে সংযত করে, কোরআন আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে। রোজা মানুষকে আল্লাহর ভয় শেখায়, আর কোরআন তাকে আল্লাহর পরিচয় করিয়ে দেয়। তাই রমজান ও কোরআন একে অপরের পরিপূরক—একটি প্রস্তুতি, অন্যটি প্রেরণা; একটি সংযম, অন্যটি আলোকিত দিকনির্দেশ।

এই হাদিস আমাদের মনে করিয়ে দেয়, কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার জন্য বড় আলেম হওয়া শর্ত নয়। আন্তরিকতা নিয়ে একটি অক্ষর পড়লেও তা আল্লাহর কাছে মূল্যবান। বিশেষ করে রমজান মাসে কোরআন তিলাওয়াতকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ বানানোই হতে পারে আমাদের আত্মিক উন্নতির শ্রেষ্ঠ মাধ্যম। কারণ এই মাসেই কোরআন নাজিল হয়েছে, আর এই কোরআনের প্রতিটি হরফই মুমিনের জন্য নাজাতের সোপান।

লেখক: অনুবাদক

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com