গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে লাভের আশায় তামাক চাষে ঝুঁকছেন কৃষকরা। তবে এতে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
সম্প্রতি উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের সাবেক জামালপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বিস্তীর্ণ জমিতে তামাক চাষ হচ্ছে। এসব ক্ষেতে কৃষকরা ঝুঁকি নিয়েই তামাক গাছের পরিচর্যা ও পাতা সংগ্রহ করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকায় প্রায় ১৭ একর জমিতে কৃষক অতুল চন্দ্র, নিমাই সরকার, রমনী কান্ত, দীপক চন্দ্র ও মিলন সরকারসহ অনেকে তামাক চাষ করছেন। তাদের দাবি, তামাক চাষে তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় তারা এই ফসলে ঝুঁকছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, কিছু বহুজাতিক কোম্পানি বীজ, সার ও কীটনাশক সরবরাহসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে তাদের তামাক চাষে উৎসাহিত করছে। পরে এসব কোম্পানি চাষিদের কাছ থেকেই তামাক পাতা কিনে নেয়।
তবে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন তামাক চাষের সঙ্গে যুক্ত থাকলে কৃষকদের নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে ক্যানসার, ব্রংকাইটিস, অ্যাজমা, চর্মরোগ, পেট ও বুকের ব্যথাসহ বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা রয়েছে। একই সঙ্গে তামাক চাষে জমির উর্বরতা কমে যায় এবং খাদ্য ফসলের উৎপাদনও হ্রাস পায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সবজু মিয়া ও শুভ মণ্ডল বলেন, এলাকায় হঠাৎ করে তামাক আবাদ বেড়ে যাওয়ায় পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি বাড়ছে। এতে কৃষিজমির উর্বরতা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অন্যান্য খাদ্য ফসলের উৎপাদনও কমে যাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাদুল্লাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা অপূর্ব ভট্টাচার্য বলেন, তামাক চাষ পরিবেশ ও মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কৃষকদের এ চাষ থেকে নিরুৎসাহিত করতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।