মাজহাবিন মৌ: ভালোবাসা শুধু একসঙ্গে পথ চলার নাম নয়। কখনো কখনো ভালোবাসা মানে জীবনের সবচেয়ে কঠিন মুহূর্তেও হাত না ছাড়ার প্রতিশ্রুতি। এই প্রেমিক যুগলের গল্পটাও ছিল ঠিক তেমনই। দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, অসংখ্য স্বপ্ন আর একসঙ্গে ভবিষ্যৎ গড়ার পরিকল্পনায় ভরপুর ছিল তাদের জীবন। কিন্তু হঠাৎ করেই সবকিছু বদলে যায় যখন মেয়েটি জানতে পারে, সে মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। চিকিৎসকরাও জানিয়ে দেন, তার হাতে হয়তো আর খুব বেশি সময় নেই।
এমন একটি সংবাদ যে কাউকে ভেঙে দিতে পারে। অনেক সম্পর্কও হয়তো এমন বাস্তবতার সামনে এসে থেমে যায়। কিন্তু ছেলেটি সেদিন ভিন্ন এক সিদ্ধান্ত নেয়। সে চায়নি তার প্রিয় মানুষটি শুধুমাত্র প্রেমিকা পরিচয় নিয়েই পৃথিবী থেকে বিদায় নিক। জীবনের শেষ মুহূর্তগুলোতে হলেও তাকে নিজের স্ত্রী হিসেবে সম্মান দিতে চেয়েছিল সে।
আর তাইতো হাসপাতালের একটি কক্ষই হয়ে ওঠে তাদের বিয়ের মণ্ডপ। স্যালাইনের স্ট্যান্ড, ওষুধের গন্ধ আর সাদা দেয়ালের মাঝেই সম্পন্ন হয় জীবনের সবচেয়ে আবেগঘন আয়োজন। সেখানে ছিল না কোনো জাঁকজমক, ছিল না শত শত অতিথির উপস্থিতি। ছিল শুধু দুটি হৃদয়ের গভীর ভালোবাসা আর শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত পাশে থাকার অঙ্গীকার।
ক্যান্সার মেয়েটির শরীরকে দুর্বল করে দিয়েছিল ঠিকই, কিন্তু তাদের ভালোবাসাকে হার মানাতে পারেনি। হাসপাতালের বেডে শুয়ে বিয়ের পোশাক পরা মেয়েটির চোখে তখন ছিল এক অপূর্ণ স্বপ্ন পূরণের প্রশান্তি। কারণ সে জানত, পৃথিবী ছেড়ে যাওয়ার আগে সে তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষটির স্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন পূরণ করতে পেরেছে।
ভারতের মুম্বাইয়ের একটি হাসপাতালে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা আবারও মনে করিয়ে দেয়, সত্যিকারের ভালোবাসা সময়ের দৈর্ঘ্যে নয়, মাপা হয় অনুভূতির গভীরতায়। ভালোবাসা মানে শুধু সুখের দিনে একসঙ্গে থাকা নয়, ভালোবাসা মানে সবচেয়ে কঠিন সময়েও পাশে থেকে বলা,আমি আছি, শেষ পর্যন্ত আছি।