বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:০৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
রংপুরে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি, পুষ্টিকর খাবার কিনতে হিমশিম মধ্যবিত্ত মির্জাপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, ট্রেন চলাচল বন্ধ তুরাগ নদ থেকে বিমান বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা তাহসিফ সৌরির মরদেহ উদ্ধার ঘূর্ণিঝড় অর্নবের প্রভাবে বৃষ্টি হতে পারে দেশের যেসব অঞ্চলে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ শুরু, চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ঢাকা মহানগর উত্তর যুবদলের সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রাজিব হোসেন পিন্টু রংপুরসহ আট বিভাগে দুই দিন বৃষ্টির আভাস, কমতে পারে তাপমাত্রা বৃহস্পতিবার টানা সাড়ে ৯ ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকবে না যেসব এলাকায় গুলির শব্দ শুনে ছুটে যান স্ত্রী, দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছে স্বামীর বুক গাইবান্ধায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‍্যালি

রংপুরে সবজির বাজারে কিছুটা স্বস্তি, পুষ্টিকর খাবার কিনতে হিমশিম মধ্যবিত্ত

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬
  • ০ জন সংবাদটি দেখেছেন

রংপুরের বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়ায় কিছু পণ্যের দামে স্বস্তি ফিরেছে। তবে চাল, মাছ, মাংস ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকলেও সীমিত আয়ের মানুষের খাদ্যব্যয় কমছে না। মাসের শেষ সপ্তাহে এসে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেকেরই বাজার করার সামর্থ্য কমে যাচ্ছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহ থেকে অক্টোবর পর্যন্ত রংপুরের বাজারে সবজির দামে ওঠানামা দেখা গেছে। বিশেষ করে আলু ও শিমের দাম কমেছে। অন্যদিকে টমেটো, গাজর ও কাঁচামরিচের দামে সরবরাহের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তন হয়েছে।

২৫ আগস্ট কার্ডিনাল আলু ২২ থেকে ২৫ টাকা, সাদা আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা এবং লাল পাকড়ি আলু ৩৫ থেকে ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে কার্ডিনাল আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা এবং সাদা আলু ২৫ থেকে ৩০ টাকায় নেমে আসে। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কার্ডিনাল আলু ১৮ থেকে ২০ টাকা ও দেশি সাদা আলু ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ১২০ থেকে ১৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়া টমেটো ও গাজরের দাম অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে একপর্যায়ে ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায় উঠেছিল। পরে তা কমে আবার ১২০ থেকে ১৪০ টাকার মধ্যে স্থির হয়।

আগস্টের শেষ সপ্তাহে কাঁকরোল ৪০ থেকে ৫০ টাকা, ঝিঙা ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং মুলা ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কাঁকরোলের দাম ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙা ৪০ থেকে ৫০ টাকা এবং ফুলকপি ৪০ থেকে ৫০ টাকার মধ্যে ছিল। বরবটি, পটল, ঢেঁড়স ও করলার দামেও তিন মাসে ১০ থেকে ২০ টাকার ব্যবধান দেখা গেছে।

শিমের দাম আগস্টে ১৫০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি থাকলেও সেপ্টেম্বরে বেড়ে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় পৌঁছায়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে তা কমে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় নেমেছে।

সিটি বাজারের সবজি বিক্রেতা আলমগীর হোসেন বলেন, বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বেড়েছে। এ কারণে গত সপ্তাহের তুলনায় অধিকাংশ সবজির দাম কমেছে। দিন যত যাবে, দাম আরও কমতে পারে।

স্টেশন বাজারের বিক্রেতা ইমরান হোসেন বলেন, মাসের শেষ সপ্তাহে সাধারণত পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি কমে যায়। ফলে কিছু সবজির দামও সামান্য কমেছে।

রংপুর নগরীর শাপলা চত্বরের খান বহুমুখী মার্কেটে বাজার করতে এসে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী মশিউর রহমান বলেন, চার সদস্যের পরিবারে এক হাজার টাকার বাজারে দুই দিনও চলে না। বেতনের হিসাব করে বাজার করতে হয়। কিন্তু বেশি হিসাব করতে গেলে সন্তানদের পুষ্টিকর খাবার দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। তাঁর ভাষ্য, দ্রব্যমূল্যের চাপে মাসের ২০ তারিখের পরই মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেকের পকেটে টাকা থাকে না।

নগরীর কামাল কাছনা এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন কিন্ডারগার্টেন শিক্ষক রবিউল ইসলাম। সীমিত বেতন ও টিউশনের আয় দিয়ে সংসার চালাতে গিয়ে তাঁকেও হিমশিম খেতে হচ্ছে।

সিটি বাজারে কেনাকাটা শেষে তিনি বলেন, বাজারে এসে নিজেকে অসহায় মনে হয়। সবকিছুর দাম বেশি, অথচ বিক্রেতারা বলছেন দাম কম। তাঁর অভিযোগ, ৪০ টাকার নিচে শীতকালীন সবজি পাওয়া যাচ্ছে না। আগে তুলনামূলক সস্তা হওয়ায় অনেক নিম্ন আয়ের পরিবার ডিম কিনত, এখন সেটিও কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের আরও গুরুত্ব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি।

গত তিন মাসে কাঁচামরিচসহ মসলাজাতীয় পণ্যের দামেও ওঠানামা দেখা গেছে। ২৫ আগস্ট কাঁচামরিচের দাম এক দিনের ব্যবধানে ৬০ থেকে ৭০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকায় ওঠে। সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে তা ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় পৌঁছায়। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে কমে আবার ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।

তিন মাস ধরে দেশি পেঁয়াজের দাম মোটামুটি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় স্থিতিশীল ছিল। দেশি আদার দাম আগস্টে ২২০ থেকে ২৪০ টাকা থাকলেও সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে কমে ১৩০ থেকে ১৬০ টাকার মধ্যে নেমেছে। রসুন ও শুকনা মরিচের দামেও সামান্য ওঠানামা হয়েছে।

আগস্টের শেষ সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরেও দাম প্রায় একই ছিল। সোনালি মুরগির দাম আগস্ট ও সেপ্টেম্বরে ৩১০ থেকে ৩২০ টাকা থেকে কমে ৩০০ টাকায় নামলেও অক্টোবরে আবার ৩১০ থেকে ৩২০ টাকায় উঠেছে। দেশি মুরগির দাম ছিল ৫৪০ থেকে ৫৭০ টাকার মধ্যে।

ডিমের দামেও বড় পরিবর্তন দেখা যায়নি। আগস্টের শেষ সপ্তাহে প্রতি হালি লাল ডিম ৪৬ থেকে ৪৮ টাকা, সেপ্টেম্বরের শেষে ৪৮ থেকে ৫০ টাকা এবং অক্টোবরের শেষ সপ্তাহে আবার ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, ডিমও এখন অনেক পরিবারের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। নগরীর লালবাগের একটি ছাত্রাবাসে থাকা বকুল চন্দ্র রায় বলেন, আকারভেদে প্রতি

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com