মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১:৩৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

মাত্র ৩ হাজার টাকার পুঁজি, রঙিন মাছ চাষে লাখপতি হলেন সাগর

  • সবশেষ আপডেট : বৃহস্পতিবার, ২০ নভেম্বর, ২০২৫
  • ২২১ জন সংবাদটি দেখেছেন

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের রামজীবন ইউনিয়নের সাগর সরকার মাত্র ৩ হাজার টাকা পুঁজি দিয়ে শুরু করেছিলেন রঙিন মাছ চাষের যাত্রা। আজ তার উদ্যোগ তাকে লাখপতি বানিয়েছে। উচ্চশিক্ষিত এই তরুণ উদ্যোক্তা চাকরির পথে না ছুটে বেছে নিয়েছেন ভিন্ন পথ—মাছ চাষে।

সাগর রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে জেন্ডার অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিসে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ২০১৯ সালের নভেম্বরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠী দুই বন্ধুর সঙ্গে মিলিয়ে টিউশনির ৩ হাজার টাকায় ৩৪টি মাছ নিয়ে তার পথচলা শুরু হয়। শীতকালে কিছু মাছ মারা গেলেও সেগুলো অল্প, এবং সাগর হাল ছাড়েননি। কোভিড-১৯ মহামারির সময় (২০২০) বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় মাছের পরিচর্যায় তিনি আরও মনোযোগ দেন।

তিনি মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় মা মাছ আমদানি করেন এবং বাড়ির ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন চৌবাচ্চা ও পুকুরে চাষ শুরু করেন। মা মাছের পোনা বিক্রি করে প্রথম দিকে লাভ কম হলেও ২০২১ সালে তার ব্যবসা লাভজনক হতে শুরু করে। বর্তমানে সাগরের পাঁচটি পুকুরে ভেসে বেড়াচ্ছে অন্তত ২ লাখ রঙিন মাছ, যার বাজারমূল্য প্রায় ২০ লাখ টাকা।

সাগরের খামারের নাম ‘সাগর এগ্রো ফার্ম’। খামারে লাল, কমলা, সাদা, কালোসহ নানা রঙের মাছ পাওয়া যায়—টাইগার বার্ব, গোরামি, অটো ব্রিড, গোল্ডফিশ, কই সফট টেল, দানিয়া, জেব্রা, অ্যাঞ্জেল থাইটার, সোর্ডটেল, গাপ্পি কমেট, সানসেট প্লাটি, রেড মলি, ব্ল্যাক মলি, বেলুন মলি ও জাপানি বাটারফ্লাইসহ বিভিন্ন প্রজাতি।

রঙিন মাছ স্বাদে রুই বা কার্প জাতীয় মাছের মতো হলেও এগুলোর দাম কেজি প্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা। সাধারণ মানুষ এগুলো খেতে পারেন না, এগুলো মূলত শৌখিন বা সামাজিক মর্যাদা বাড়ানোর জন্য বাসা-বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা রেস্তোরাঁর অ্যাকুয়ারিয়ামে রাখা হয়। একেকটি মাছের দাম ১৫০০–৩০০০ টাকা। এভাবে প্রতি মাসে তার নিট লাভ হয় ৬০–৭০ হাজার টাকা।

উদ্যোক্তা সাগর বলেন, “দেশে রঙিন মাছের চাহিদা প্রায় ৬০০ কোটি টাকা, যার অর্ধেকই আমদানি করা হয়। উৎপাদন বাড়ালে কর্মসংস্থান বাড়বে এবং বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় হবে।”

নতুন বছরে তিনি আরও তিনটি পুকুরে মাছ চাষের পরিকল্পনা করছেন। এতে শুধু তার নয়, অন্যদেরও কর্মসংস্থান তৈরি হবে। সাগরের বাবা মোজাফফর হোসেন বলছেন, “ছেলেকে দেখে গর্ব অনুভব করছি। সে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে স্বপ্ন পূরণ করছে।”

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোছা. সুমিতা খাতুন জানান, প্রয়োজনে সাগরকে মৎস্য অধিদপ্তরের ঋণ সুবিধা দেওয়া হবে। তিনি বলেন, “বাংলা মাছ বা ছোট মাছ চাষের প্রশিক্ষণ ইতোমধ্যে সাগরকে দেওয়া হয়েছে।”

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com