রংপুরের কাউনিয়া উপজেলায় তেজপাতা চাষ এখন কৃষকদের আয়ের প্রধান উৎসে পরিণত হয়েছে। একসময় পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে আঙিনায় কয়েকটি গাছ লাগালেও এখন বাণিজ্যিকভাবে চাষ হচ্ছে শত শত একর জমিতে। কম খরচে বেশি লাভ এবং দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন পাওয়ার কারণে কৃষকেরা ধান ও পাট ছেড়ে ঝুঁকছেন এই মসলাজাতীয় ফসলের দিকে।
কাউনিয়ার রাজীব গ্রামের কৃষক আবু সুফিয়ান জানান, মাত্র ৬৬ শতক জমিতে ৩৩৩টি তেজপাতার চারা রোপণ করেন তিনি। এতে তার খরচ হয় প্রায় ৩০ হাজার টাকা। ইতিমধ্যে তিনি আয় করেছেন ২ লাখ টাকা।
একই গ্রামের আশরাফুল ইসলাম বলেন, “ধান বা পাট চাষের তুলনায় তেজপাতা চাষে খরচ ও পরিশ্রম কম। একবার চারা লাগালে ৫০ বছর পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।” বর্তমানে তিনি বছরে ১৬ মণ পর্যন্ত পাতা বিক্রি করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, কাউনিয়া থেকে প্রতি সপ্তাহে প্রায় ৩০০ বস্তা তেজপাতা ঢাকায় পাঠানো হয়। কেজিপ্রতি ১০৮-১১২ টাকায় বিক্রি হয় এই পাতা। এখানকার মানসম্মত তেজপাতা সৌদি আরব, দুবাই, সিঙ্গাপুরসহ ২১টি দেশে রপ্তানি হচ্ছে।
কাউনিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তানিয়া আকতার বলেন, “উপজেলায় কয়েকশ বিঘা জমিতে তেজপাতা চাষ হচ্ছে। কৃষকেরা প্রতিবছর এসব বাগান থেকে কয়েক কোটি টাকার পাতা বিক্রি করছেন। আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ তেজপাতা চাষের জন্য উপযোগী।”
কৃষিবিদরা জানাচ্ছেন, তেজপাতার ভেষজ গুণাগুণও রয়েছে। এটি শুধু মসলাজাতীয় ফসল নয়, ওষুধ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
তেজপাতা চাষ এখন শুধু স্থানীয় কৃষকের নয়, দেশের অর্থনীতির জন্যও একটি সম্ভাবনাময় খাত। কাউনিয়ার এই অভিজ্ঞতা অন্য অঞ্চলের কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করছে বাণিজ্যিকভাবে তেজপাতা চাষে এগিয়ে আসতে।