মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬, ১২:২০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

বেগম রোকেয়াকে ‘কাফের-মুরতাদ’ মন্তব্যে রাবি শিক্ষক বিতর্কের কেন্দ্রে

  • সবশেষ আপডেট : মঙ্গলবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৫
  • ১০৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক খন্দকার মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসানের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্ট ঘিরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। নারী জাগরণ ও শিক্ষার পথিকৃৎ বেগম রোকেয়াকে ‘মুরতাদ-কাফের’ আখ্যা দিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করার পর শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ নেটমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়।

মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে তিনি সাজিদ হাসান নামের এক ব্যবহারকারীর পোস্ট শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, “আজ মুরতাদ কাফির বেগম রোকেয়ার জন্মদিন।” পোস্টটি মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়।

রাকসুর সাবেক সাহিত্য সম্পাদক প্রার্থী মামুনুজ্জামান স্নিগ্ধ ওই পোস্টের সমালোচনা করে বলেন, নারী নিপীড়ন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধেই রোকেয়া আজীবন লড়েছেন। তাই এখনো অনেকের কাছে তিনি ‘অস্বস্তিকর’ হয়ে আছেন। অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট সাদিকুর রহমান লিখেছেন, এক শতাব্দী আগে প্রয়াত এক নারীবাদী লেখিকাকে এখনো গালাগাল করতে হওয়া প্রমাণ করে তার চিন্তার শক্তি কতটা প্রভাব বিস্তার করেছে।

রাবি ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক পরমা পারমিতা বলেন, বেগম রোকেয়া মানবিক মূল্যবোধ ও প্রগতিশীল সমাজচিন্তার প্রতিচ্ছবি। একজন শিক্ষক হয়ে তাকে ধর্মীয় গালি দেওয়া দায়িত্বজ্ঞানহীনতা। ছাত্রদল নেত্রী জাহিন বিশ্বাস এষা বলেন, রোকেয়া নারী জাগরণের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ নাম। তার বিরুদ্ধে এই ধরনের মন্তব্য নারীদের প্রতি অবমাননা।

এ বিষয়ে জানতে সাংবাদিকরা খন্দকার মাহমুদুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে কিছু গণমাধ্যমকে তিনি জানান, রোকেয়ার লেখার কিছু অংশ দেখে তিনি মনে করেছেন, তিনি ‘ইসলামবিদ্বেষী’। তার ভাষ্য, “এই বিষয়ে চূড়ান্ত মত দেওয়ার দায়িত্ব আলেমদের।”
তবে তিনি স্বীকার করেছেন, রোকেয়ার খুব বেশি লেখা তিনি পড়েননি, শুধু একটি উপন্যাস পড়েছেন।

রাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বক্তব্যটি সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের ব্যক্তিগত মত। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এ ধরনের মন্তব্য সমর্থন করে না। শিক্ষাঙ্গনের অনেকেই মনে করছেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে ধর্মীয় অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করা শিক্ষার পরিবেশ, মূল্যবোধ ও যৌক্তিকতার পরিপন্থী।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com