গাইবান্ধায় প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা চলাকালে অবৈধ ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহার ও নকলের চেষ্টার অভিযোগে ১৭ জন নারীসহ মোট ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে মোবাইল ফোন, এটিএম কার্ডসহ ৪৭টি বিশেষ ডিজিটাল ডিভাইস জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া চার পরীক্ষার্থীর কানের ভেতর লুকানো অত্যাধুনিক ব্লুটুথ ডিভাইস উদ্ধার করা হয়।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৪টা পর্যন্ত গাইবান্ধা সদর, পলাশবাড়ী ও ফুলছড়ি উপজেলার বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে অভিযান চালিয়ে এসব পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়। অভিযানে দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।
পুলিশ জানায়, গাইবান্ধা সদর উপজেলার ৩৭টি কেন্দ্র থেকে ৩৭ জন, পলাশবাড়ী উপজেলার চারটি কেন্দ্র থেকে ১২ জন এবং ফুলছড়ি উপজেলার দুটি কেন্দ্র থেকে দুইজন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। আটকদের মধ্যে নারী ১৭ জন এবং পুরুষ ৩৪ জন।
সদর উপজেলার আহম্মেদ উদ্দিন শাহ শিশু নিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে দুইজন, সরকারি কলেজ কেন্দ্র থেকে চারজন, গাইবান্ধা সিদ্দিকীয়া কামিল মাদ্রাসা কেন্দ্র থেকে নারীসহ তিনজন, চাপাদহ বিএল উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে একজন, কুপতলা আব্দুল কাইয়ুম উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্র থেকে ১৩ জন এবং লক্ষীপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ আরও কয়েকটি কেন্দ্র থেকে মোট ১৪ জন পরীক্ষার্থী আটক করা হয়।
পুলিশ জানায়, চার পরীক্ষার্থীর কানের ভেতরে প্রবেশ করানো ব্লুটুথ ডিভাইস উদ্ধারে তাদের সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকের সহায়তায় ডিভাইসগুলো অপসারণ করা হয়।
বিষয়টি নিশ্চিত করে গাইবান্ধা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ মুত্তাজুল ইসলাম বলেন, ‘পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বন ও নিষিদ্ধ ডিভাইস বহনের অভিযোগে ৫১ জন পরীক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। উদ্ধার করা হয়েছে ৪৭টি ডিজিটাল ডিভাইস ও মোবাইল ফোন। আটক সবাই বর্তমানে থানার হেফাজতে রয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।’
তিনি আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠু ও নকলমুক্ত রাখতে প্রতিটি কেন্দ্রে পুলিশ, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করেন। পরীক্ষাকালীন কেন্দ্রের আশপাশে ১৪৪ ধারা জারি ছিল এবং শুরু থেকেই পরীক্ষার্থীদের কঠোর তল্লাশির আওতায় আনা হয়।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, গাইবান্ধার সাতটি উপজেলায় ৪০০টির বেশি শূন্য পদের বিপরীতে ২৭ হাজার ৬৮৮ জন পরীক্ষার্থী আবেদন করেছিলেন। এর মধ্যে পরীক্ষায় উপস্থিত ছিলেন ২২ হাজার ১৯৭ জন এবং অনুপস্থিত ছিলেন ৫ হাজার ৫৩১ জন। গাইবান্ধা সদর ও পলাশবাড়ী উপজেলায় মোট ৪৩টি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।