গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে এক যুবক বোরকা পরে ছদ্মবেশে একটি মহিলা মাদ্রাসায় প্রবেশের চেষ্টা করার সময় স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে হস্তান্তর করেছে। এই ঘটনার পর এলাকায় সতর্কতা ও চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২১ জানুয়ারির দিনগত বেলা ১১টার দিকে মুকসুদপুর উপজেলার লোহাচূড়া এলাকায় অবস্থিত মুকসুদপুর মডেল মহিলা ফাজিল মাদ্রাসায় ওই যুবক বোরকা পরে প্রবেশ করে। সভ্য আচরণে না থাকা, সন্দেহজনকভাবে শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করা এবং ছদ্মবেশে থাকা দেখে স্থানীয়রা তাকে ধরে ফেলে। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয় এবং পুলিশ তাকে মুকসুদপুর থানায় নিয়ে যায়।
মাদ্রাসার একজন সূত্র জানান, যুবকটি বোরকা পরে প্রবেশের সময় একজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে দেখা করতে চাইছিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত লোকজন তা ভুল কার্যকলাপ হিসেবে দেখে সন্দেহজনক মনে করেন এবং তাকে আটক করেন।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে ঘটনাস্থল থেকে আটক যুবককে ছদ্মবেশে থাকার কারণে লোহাচুড়া মুকসুদপুর মডেল মহিলা ফাজিল মাদ্রাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি মুকসুদপুর থানায় hেফাজতে আছেন এবং তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
সামাজিক মাধ্যমে ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন দাবি ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে এটিকে ‘বোরকা পড়ে কোনো রাজনৈতিক কর্মী ভোট চাইতে গেছেন’ এমনভাবে উচ্চারণ করে ভাইরাল করা হয়েছিল, যা বাস্তবে ঘটেনি। এমন দাবিকে ফ্যাক্ট চেক সংস্থা ভুল বলে প্রকাশ করেছে। আসলে এটি মাদ্রাসা থেকে আটক হওয়া ব্যক্তির ছবি হলেও ভোট বা রাজনৈতিক কোনো কর্মসূচির সঙ্গে এর সরাসরি সম্পর্ক পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় মাদ্রাসা ও পুলিশি কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি স্থানীয়রা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনসাধারণের মধ্যে ভুল তথ্যের ছড়াছড়ি প্রতিরোধ করাই গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন সমাজকর্মীরা।