গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরফকামালপুর গ্রামে ওড়াও সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের প্রাচীন মাতৃভাষা ‘কুরুখ’ আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যখন গোটা দেশ ভাষা শহীদদের স্মরণে নতশির, ঠিক তখনই আদিবাসী ওড়াও জনগোষ্ঠী নিজেদের মাতৃভাষা রক্ষায় উদ্বেগ জানাচ্ছে।
গ্রামটিতে পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন প্রায় ২৫টি ওড়াও পরিবার। দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষায় কথা বললেও নিজেদের সংস্কৃতি, গান, গল্প, আচার-অনুষ্ঠানে তারা এখনও কুরুখ ভাষার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন প্রজন্মের হাতে সেই ভাষা আর টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।
ওড়াও সম্প্রদায়ের সদস্য ধানুচা শিল বলেন, “কুরুখ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই। লিখে শেখার সুযোগ না থাকায় শিশুরা ভাষাটি দ্রুত ভুলে যাচ্ছে। বাংলা মাধ্যমের পড়াশোনা ভাষাচর্চাকে আরও সংকুচিত করে তুলেছে।”
ওড়াও নারী চাঁদনী বালা বলেন, “অনেকেই এখন কুরুখ ভাষায় দু-চারটি বাক্যও বলতে পারে না। বর্ণমালা প্রণয়ন ও আলাদা স্কুল না হলে ভাষাটি একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।”
গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান মনে করেন, “যে কোনো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে গেলে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বিলুপ্ত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার নয়—সব মাতৃভাষার জন্যই এক অনুপ্রেরণা। কুরুখ ভাষা সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।”
ওড়াও সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠ সাবলু মোরাং বলেন, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে কুরুখ ভাষা ভুলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া ভাষাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়।”
মাতৃভাষার মাসে কুরুখ ভাষা রক্ষার এই আহ্বান নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।