বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

বিলুপ্তির পথে গাইবান্ধার আদিবাসী ভাষা ‘কুরুখ’

  • সবশেষ আপডেট : শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২৬
  • ১৮৯ জন সংবাদটি দেখেছেন

গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার তরফকামালপুর গ্রামে ওড়াও সম্প্রদায়ের মধ্যে তাদের প্রাচীন মাতৃভাষা ‘কুরুখ’ আজ বিলুপ্তির দ্বারপ্রান্তে। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে যখন গোটা দেশ ভাষা শহীদদের স্মরণে নতশির, ঠিক তখনই আদিবাসী ওড়াও জনগোষ্ঠী নিজেদের মাতৃভাষা রক্ষায় উদ্বেগ জানাচ্ছে।

গ্রামটিতে পাঁচ শতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন প্রায় ২৫টি ওড়াও পরিবার। দৈনন্দিন জীবনে বাংলা ভাষায় কথা বললেও নিজেদের সংস্কৃতি, গান, গল্প, আচার-অনুষ্ঠানে তারা এখনও কুরুখ ভাষার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন প্রজন্মের হাতে সেই ভাষা আর টিকিয়ে রাখা যাচ্ছে না।

ওড়াও সম্প্রদায়ের সদস্য ধানুচা শিল বলেন, “কুরুখ ভাষার কোনো বর্ণমালা নেই। লিখে শেখার সুযোগ না থাকায় শিশুরা ভাষাটি দ্রুত ভুলে যাচ্ছে। বাংলা মাধ্যমের পড়াশোনা ভাষাচর্চাকে আরও সংকুচিত করে তুলেছে।”

ওড়াও নারী চাঁদনী বালা বলেন, “অনেকেই এখন কুরুখ ভাষায় দু-চারটি বাক্যও বলতে পারে না। বর্ণমালা প্রণয়ন ও আলাদা স্কুল না হলে ভাষাটি একদিন পুরোপুরি হারিয়ে যাবে।”

গাইবান্ধা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ মো. খলিলুর রহমান মনে করেন, “যে কোনো ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর ভাষা হারিয়ে গেলে তাদের সাংস্কৃতিক পরিচয়ও বিলুপ্ত হয়। একুশে ফেব্রুয়ারি শুধু বাংলা ভাষার নয়—সব মাতৃভাষার জন্যই এক অনুপ্রেরণা। কুরুখ ভাষা সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ জরুরি।”

ওড়াও সম্প্রদায়ের বয়োজ্যেষ্ঠ সাবলু মোরাং বলেন, “এখনই ব্যবস্থা না নিলে কুরুখ ভাষা ভুলে যাওয়া সময়ের ব্যাপার মাত্র। সরকার ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা ছাড়া ভাষাটি রক্ষা করা সম্ভব নয়।”

মাতৃভাষার মাসে কুরুখ ভাষা রক্ষার এই আহ্বান নতুন করে মনে করিয়ে দেয়—ভাষাগত বৈচিত্র্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com