আরএনবি ডেস্কঃ
সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের ছাত্রী হোস্টেলে বালতি ভর্তি কনডম পাওয়া যাওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ছাত্র–ছাত্রী ও সাবেক শিক্ষার্থীদের দিনব্যাপী আন্দোলনের মুখে হল সুপার মুজিবুর রহমান ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধান পঙ্কজ বর্মণকে অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বুধবার রাতেই কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বুধবার সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী ছাত্রী হোস্টেলে “অনৈতিক কর্মকাণ্ড” হয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়ে পোস্ট দিলে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে।
সকাল ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা জামালগঞ্জ রিভার ভিউ পার্ক থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। মিছিলটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে কলেজ ক্যাম্পাসে গিয়ে অবস্থান নেয়।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, হোস্টেল ভবনে নির্বাচনের সময় দায়িত্ব পালনকারী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি দল অস্থায়ীভাবে অবস্থান করেছিল। ওই সময় হোস্টেলে কোনো ছাত্রী ছিল না। পরে বাথরুম পরিষ্কার করতে গিয়ে বালতি ভর্তি কনডমের প্যাকেট পাওয়া যায় বলে দাবি করেন তারা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মৌখিকভাবে কলেজ কর্তৃপক্ষকে জানালেও অধ্যক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নেননি, বরং বিলম্ব করেছে। ফলে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভে নামে।
বিকেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সেখানে আসেন সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক তাপস শীল।
শিক্ষার্থীদের দাবি শুনে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে হোস্টেলের দুই দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে অপসারণের নির্দেশ দেন এবং ঘটনার তদন্তের নির্দেশনা দেন।
রাতের দিকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুজিত রঞ্জন দে বলেন—“অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিক্ষার্থীদের দাবি বিবেচনায় নিয়ে হল সুপার ও ইতিহাস বিভাগের বিভাগীয় প্রধানকে ছাত্রী হোস্টেলের অতিরিক্ত দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছেন। পাশাপাশি পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।”এ ঘটনায় জামালগঞ্জ কলেজ ও আশপাশের এলাকায় তীব্র আলোচনা–সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।