সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬, ১১:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
৯৩ শিক্ষানবিশ এএসপিকে বদলি রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার সাতক্ষীরা-১ আসনের সাবেক এমপি নজরুল ইসলাম চা শিল্পের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর ধেয়ে আসছে মৌসুমি নিম্নচাপ, বৃদ্ধি পাচ্ছে বাতাসের গতিবেগ এক যুবককে একসঙ্গে বিয়ে করেছেন তিন বোন চিকিৎসার জন্য কোথায় যাবেন সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অক্টোবরে ভারতে খেলতে পারে ব্রাজিল, আলোচনায় বাংলাদেশও বিরামপুর সীমান্তে ৯ নারীকে ‘পুশ-ইন’ চেষ্টার অভিযোগ, প্রতিহত করল বিজিবি সেকেন্ড-হ্যান্ড স্মার্টফোন কেনার আগে যে ৭ বিষয় অবশ্যই যাচাই করবেন সান্তোসের ম্যাচ চলাকালে পোকার টুর্নামেন্টে নেইমার, নেটদুনিয়ায় বিতর্ক

না জেনে বলা কি জায়েজ?

  • সবশেষ আপডেট : শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৫
  • ১০৫ জন সংবাদটি দেখেছেন

কোনো বিষয়ে নিশ্চয়তা ছাড়া অনুমান করে কথা বলা ইসলাম নিষেধ করে। কুরআন ও হাদিসে বলা হয়েছে — জানার পরই কথা বলা, না জানলে জিজ্ঞেস করা এবং অপ্রামাণ্য বক্তব্য ছড়িয়ে না দেওয়া শিষ্টাচার ও ধর্মীয় দায়িত্ব। অজানা টপিকে বোলবকা করলে ব্যক্তিগত, সামাজিক ও ধর্মীয়ভাবে বড় ধরনের ক্ষতি ঘটে — বিভ্রান্তি, গীবত, মিথ্যাচার ও বিদআতের বিস্তার হতে পারে।

কুরআন আমাদের সতর্ক করেছেন: যাদের সম্পর্কে তোমার নিশ্চিত জ্ঞান নেই, তাদের ব্যাপারে অযথা কথা বলবে না। আমাদের কান, চোখ ও অন্তর—এসব ব্যবহার কিয়ামতের দিন জিজ্ঞাসিত হবে। তাই জীবনের সব ক্ষেত্রে, বিশেষত দ্বীনি বিষয়ে, ধারণা‑ভিত্তিক বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুচিত।

ধর্মীয় বিধান, কুরআন‑হাদিসের ব্যাখ্যা ও শরীয়ত সম্পর্কে অসম্পূর্ণ জ্ঞান নিয়ে বক্তব্য দিলে তা দ্রুত দ্বীনের বিকৃতি ও মিথ্যা ধর্মীয় প্রথা (বিদআত) সৃষ্টি করে। এমন কথার দায় আল্লাহ ও উহার রাসূলের নামে মিথ্যাবাদে পরিণত হতে পারে — যা গুরুতর অপরাধ। তাই দ্বীনি বিষয়ে নিশ্চিত না হলে আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস করার নির্দেশ রয়েছে।

অনেকেই অহংকার, আত্মতুষ্টি বা জিজ্ঞাসা করার কষ্ট এড়াতে পরামর্শ চায় না কিংবা নিজ অনুমানই প্রচার করে। এতে ভ্রান্ত ধারণা রপ্ত করে অপরকেও বিভ্রান্ত করা হয়। কখনো ভাষ্যমতে কুরআন‑আয়াত বা হাদিস তুলে এনে ভুল প্রেক্ষাপটে প্রমাণ দেখানোর ভুলও ঘটে — ফলে সঠিক বোঝাপড়া নষ্ট হয়।

ব্যক্তিজীবনে ও সমাজে না জেনে কথা বলার ফলে ভুল বোঝাবুঝি, কলহ, অপবাদ ও গীবত বৃদ্ধি পায়। কুরআন ও হাদিসরা ‘ধারণার থেকে দূরে থাকার’ নীতিটি স্পষ্ট করেছেন—কারণ ধারণা প্রায়ই মিথ্যার শিকড় হয়ে ওঠে। শোনা‑করা কথা যাচাই না করে ছড়িয়ে দেয়া মিথ্যাবাদেই পরিণত হতে পারে।

যখন কেউ পরামর্শ চায়, যে ব্যক্তি পরামর্শ দিচ্ছে তাকে সতর্ক থাকতে হবে—যদি বিষয় সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান না থাকে, তাহলে এমন পরামর্শ দেওয়া উচিত নয়; বরং যোগ্য ব্যক্তির কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেয়াই উত্তম। রোগীর বিষয়ে চিকিৎসা‑জ্ঞান ছাড়া ওষুধ সুপারিশ করার মতো কাজ করা মারাত্মক ভুল উদাহরণ।

  • নিশ্চিত না হলে কোনো বিষয়ে পেছনে পড়ো না।
  • আলেমদের কাছে জিজ্ঞেস কর—যদি জানো না।
  • অনুমান, গুজব ও অনিশ্চিত বক্তব্য থেকে বিরত থাক।
  • শোনা‑করা কথা যাচাই না করে প্রচার করা থেকে বাঁচো।
  • পরামর্শ দেয়ার আগে স্বীয় যোগ্যতা বিবেচনা করো—না জানলে নীরব থাকো বা উপযুক্ত ব্যক্তির কাছে পাঠাও।

’না জেনে না বলা’—এই নীতিটি ব্যক্তিগত নৈতিকতা ও সামাজিক শান্তির জন্য অপরিহার্য। কুরআন‑হাদিস আমাদের শিক্ষায় অনুরূপ নির্দেশনা বারবার এসেছে; আমরা যদি এ নীতি অনুসরণ করি, তাহলে বিভ্রান্তি, মিথ্যাচার ও বিদআতের বিস্তার ঠেকানো সম্ভব। আল্লাহ আমাদের সঠিক জ্ঞান অর্জনে ও মিথ্যা থেকে বিরত থাকতে তৌফিক দিন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com