রংপুর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসের সাবেক উপপরিচালক আনোয়ার পারভেজের আলমারি ভেঙে ৩৩টি কনডম ও তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধারের ঘটনায় শিক্ষা অফিসজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
গত ৭ মে বিকেলে রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসে আলমারির তালা ভেঙে এসব উদ্ধার করা হয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
অফিস সূত্রে জানা যায়, বদলিজনিত কারণে আনোয়ার পারভেজের শেষ কর্মদিবস ছিল ৩০ এপ্রিল। তার স্থলাভিষিক্ত হিসেবে নতুন উপপরিচালক প্রফেসর কামরুজ্জামান পাইকাড় যোগদান করেন। তবে দায়িত্ব হস্তান্তরের জন্য একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও আনোয়ার পারভেজ অফিসে আসেননি এবং আলমারির চাবিও বুঝিয়ে দেননি।
চার দিন অপেক্ষার পর অফিসের কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার বিকেলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতিতে হাতুড়ি দিয়ে আলমারির তালা ভাঙা হয়। পরে ড্রয়ারের ভেতর বিভিন্ন ফাইলপত্রের সঙ্গে ৩৩টি কনডম ও তিন পাতা যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট পাওয়া যায়।
বর্তমান উপপরিচালক কামরুজ্জামান পাইকাড় ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, চাবি না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে তালা ভাঙা হয়েছে। তবে এ ঘটনা প্রকাশ হলে বিসিএস ক্যাডারদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রংপুর আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের সহকারী পরিচালক সাদাকাত হোসেন বলেন, বদলির পর সময়মতো দায়িত্ব ও চাবি বুঝিয়ে না দেওয়া অনুচিত হয়েছে।
এদিকে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর আমিনুল ইসলাম দাবি করেন, আনোয়ার পারভেজের বিরুদ্ধে আগে থেকেই নানা অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগ অনেক সময় উচ্চপর্যায়ে চাপা পড়ে যায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
অন্যদিকে, আনোয়ার পারভেজ তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি দাবি করেন, কোনো অন্যায় করেননি এবং একটি মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তার বিরুদ্ধে কথা বলছে। তবে আলমারি থেকে কনডম ও যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধারের বিষয়ে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি।