বিশ্বে মাছ ও সামুদ্রিক খাদ্য উৎপাদন ইতিহাসের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা জানিয়েছে (এফএও) জানিয়েছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে মোট মাছ উৎপাদন হয়েছে ১৮৮ দশমিক ২ মিলিয়ন টন, যা এ পর্যন্ত সর্বোচ্চ রেকর্ড।
এফএওর প্রকাশিত দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিস অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটেছে। প্রথমবারের মতো মানুষের খাদ্য হিসেবে ব্যবহৃত মাছের প্রধান উৎস হয়ে উঠেছে মৎস্যচাষ বা চাষের মাছ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, মাছ মানুষের পুষ্টির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এতে রয়েছে উচ্চমানের প্রোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড, ভিটামিন ও বিভিন্ন খনিজ উপাদান, যা অনেক ক্ষেত্রে অন্য খাদ্য থেকে সহজে পাওয়া যায় না।
বর্তমানে বিশ্বে একজন মানুষ গড়ে বছরে প্রায় ২০ দশমিক ৭ কেজি মাছ খায়। অনেক উপকূলীয় দেশ ও দ্বীপরাষ্ট্রে প্রাণিজ প্রোটিনের প্রধান উৎসই মাছ। কিছু দেশে মোট প্রাণিজ প্রোটিনের অর্ধেকেরও বেশি আসে মাছ থেকে।
বিশ্ব অর্থনীতিতেও মৎস্য খাতের অবদান উল্লেখযোগ্য। বর্তমানে প্রায় ৬ কোটি ৩৮ লাখ মানুষ সরাসরি মাছ ধরা ও মৎস্যচাষের সঙ্গে যুক্ত। আর উৎপাদন থেকে বিপণন পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থায় প্রায় ৬০ কোটি মানুষের জীবিকা নির্ভর করছে এই খাতের ওপর।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৪ সালে মৎস্যচাষ খাতের উৎপাদন দাঁড়িয়েছে ১০৩ দশমিক ৩ মিলিয়ন টনে। ফলে মানুষের খাদ্যের জন্য ব্যবহৃত মাছের বড় অংশ এখন আসছে চাষের মাধ্যমে।
এশিয়া এখনও বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাছ উৎপাদন অঞ্চল। তবে আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকাতেও দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে মৎস্যচাষ, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, অনিয়ন্ত্রিত মৎস্যচাষের কারণে অনেক এলাকায় পানি দূষণ, রোগের বিস্তার এবং সামুদ্রিক পরিবেশের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্রের তাপমাত্রা বৃদ্ধি, পানির অম্লতা বৃদ্ধি এবং অতিরিক্ত মাছ আহরণও খাতটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অবৈধ মাছ ধরা বন্ধ, বিজ্ঞানভিত্তিক ব্যবস্থাপনা এবং পরিবেশবান্ধব দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ ছাড়া এই খাতের টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। অন্যথায় ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা ও কোটি মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়তে পারে।