মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার আগুন জ্বলছে। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার দাবি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে তেহরান।
এই ঘটনার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে শুরু হয়েছে সংঘাত ও প্রতিশোধের হুমকি।
তেহরানের সরকারি সূত্রে জানা গেছে, গত শনিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।
১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির উত্তরসূরি হিসেবে দায়িত্ব নেওয়া এই প্রভাবশালী নেতা প্রায় তিন দশকের বেশি সময় ধরে ইরানের সর্বোচ্চ ক্ষমতায় ছিলেন।
খামেনির মৃত্যুর ঘটনায় ইরানজুড়ে ৪০ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।
তবে শোকের পাশাপাশি প্রতিশোধের অঙ্গীকারও জানিয়েছে ইরান।
দেশটির সামরিক বাহিনী ইতিমধ্যে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে ইরানে জন্ম নেওয়া বলিউড অভিনেত্রী মন্দানা করিমি এই ঘটনার পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
ভারতে অবস্থানরত এই অভিনেত্রী এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির কারণে তিনি শিগগিরই দেশে ফিরে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
মন্দানা করিমি বলেন, তিনি এমন একটি মুক্ত ইরান দেখতে চান যেখানে নারীরা স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে পারবেন।
তার ভাষায়, বর্তমান শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের সময় এসেছে এবং সেই পরিবর্তনের দিনই তিনি দেশে ফিরতে চান।
বিশ্লেষকদের মতে, খামেনির মৃত্যু মধ্যপ্রাচ্যের রাজনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে।
ইরানের পাল্টা হামলা এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের সম্ভাব্য পদক্ষেপ পুরো অঞ্চলকে একটি অনিশ্চিত পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তেহরানে নতুন নেতৃত্বের সম্ভাবনা এবং চলমান সংঘাত ঘিরে বিশ্ব রাজনীতি এখন চরম উত্তেজনার মুখে।
পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকে নজর রাখছে গোটা বিশ্ব।