রংপুরে বেড়াতে এসে মারা গেছেন গবেষক, ভাষাতত্ত্ববিদ, ইতিহাসবিদ, কবি ও সাংবাদিক মাহমুদুল হাসান নিজামী। তিনি গীতিকার, সুরকার এবং দৈনিক ডেসটিনি ও দেশজগত পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন।
বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) সকালে রংপুরের তারাগঞ্জ এলাকায় অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
জানা গেছে, মাহমুদুল হাসান নিজামী তারাগঞ্জে বেড়াতে এসেছিলেন। সেখান থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে স্থানীয় দুইজন তাকে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। তবে হাসপাতালের দায়িত্বরতরা জানান, তাকে মৃত অবস্থাতেই হাসপাতালে আনা হয়েছিল।
রংপুরের সাফল্য সাহিত্য-সংস্কৃতি পরিবারের সভাপতি নাসরিন নাজ বলেন, সকালে যখন তিনি মারা যান তখন তার পাশে পরিচিত কেউ ছিলেন না। পরে রংপুরের কবি, সাহিত্যিক ও সাংবাদিকরা খবর পেয়ে দ্রুত হাসপাতালে এসে মরদেহ মর্গে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
তিনি আরও জানান, মাহমুদুল হাসান নিজামী প্রায়ই রংপুরের তারাগঞ্জে বেড়াতে আসতেন। এখানে তার বোন সম্পর্কের একজন আত্মীয় রয়েছেন।
ফিরেদেখা সংগঠনের সংগঠক ও আইডিয়া প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী সাকিল মাসুদ জানান, সকালে তাকে হাসপাতালে আনার পর চিকিৎসা শুরুর প্রক্রিয়া চলাকালেই তিনি মারা যান।
মাহমুদুল হাসান নিজামীর লেখা পাঁচ হাজারেরও বেশি কবিতা ও গান রয়েছে। বিষয়বৈচিত্র্যে তার প্রতিটি রচনা আলাদা স্বাদ বহন করে। এ পর্যন্ত তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা প্রায় ১৪০টি।
কবিতা, ছড়া, ইতিহাস ও গবেষণার পাশাপাশি বিশ্বসাহিত্যের শেখ সাদী, ফরিদ উদ্দিন আত্তার ও ইমরুল কায়েসের কবিতার বাংলা কাব্যানুবাদ করে তিনি বিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন।
জাতীয় কবিতা মঞ্চের প্রতিষ্ঠাতা মাহমুদুল হাসান নিজামী বাংলা সাহিত্য ও বানান সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তিনি জাতীয় সাংবাদিক মঞ্চের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৭১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার কালাপানিয়া গ্রামে তার জন্ম। তার বাবা মরহুম মাওলানা আবদুল্লাহ ছিলেন একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিষ্ঠাতা এবং মা মরহুমা মায়মুনা খাতুন ছিলেন গৃহিণী।
তার মৃত্যুতে সারা দেশের কবি, সাহিত্যিক, গবেষক, সাংবাদিক ও সাহিত্যপ্রেমীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সংগঠন ও মহল তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।