আফ্রিকার দেশ গণতান্ত্রিক কঙ্গো প্রজাতন্ত্রের (ডিআর কঙ্গো) পূর্বাঞ্চলীয় ইতুরি প্রদেশে আবারও ইবোলা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে। এতে এখন পর্যন্ত অন্তত ৬৫ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে আফ্রিকা সেন্টারস ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (আফ্রিকা সিডিসি)।
শুক্রবার সংস্থাটি জানায়, এখন পর্যন্ত ২৪৬টি সংক্রমণের ঘটনা শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্তদের বেশিরভাগই স্বর্ণখনি অধ্যুষিত মংগওয়ালু ও রামপারা এলাকার বাসিন্দা। খবর জানিয়েছে বিবিসি।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ডিআর কঙ্গো, প্রতিবেশী উগান্ডা ও দক্ষিণ সুদানসহ আন্তর্জাতিক অংশীদারদের নিয়ে জরুরি বৈঠক আহ্বান করেছে আফ্রিকা সিডিসি। বৈঠকে সীমান্ত নজরদারি জোরদার এবং সংক্রমণ প্রতিরোধে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে আলোচনা হবে।
১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো কঙ্গোতেই ইবোলা ভাইরাস শনাক্ত হয়। গবেষকদের ধারণা, বাদুড় থেকে এই ভাইরাস মানুষের মধ্যে ছড়িয়েছে। দেশটিতে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আক্রান্ত ব্যক্তির শরীরের তরল পদার্থ বা ক্ষতস্থানের সংস্পর্শে এলে দ্রুত সংক্রমণ ছড়াতে পারে। ইবোলায় আক্রান্ত হলে তীব্র রক্তক্ষরণ, অঙ্গ বিকল হওয়া এবং মৃত্যুর ঝুঁকি থাকে।
রোগটির প্রাথমিক উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, গলাব্যথা, পেশিতে ব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি। পরে বমি, ডায়রিয়া, চামড়ায় ফুসকুড়ি এবং রক্তক্ষরণ দেখা দিতে পারে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, ইবোলার নির্দিষ্ট কোনো কার্যকর চিকিৎসা এখনো নেই। এ রোগে মৃত্যুহার গড়ে প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।