রংপুরে গৃহবধূ মিতু আক্তার হত্যার ঘটনায় তার স্বামী সোহানকে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার (৪ অক্টোবর) দুপুরে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম তোফায়েল আহমেদ এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
পুলিশ জানায়, পঞ্চগড় জেলার সদর থানার মিলগেট এলাকা থেকে তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় সোহানকে গ্রেফতার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে বদরগঞ্জ থানার নাটারাম এলাকার মেনাজুল হকের মেয়ে মিতুর বিয়ে হয় সোহানের সঙ্গে। তাদের সংসারে ১০ মাসের এক শিশু সন্তানও রয়েছে।
কিন্তু বিয়ের পর থেকেই শ্বশুর রাজা মিয়ার কুনজরে পড়েন মিতু। একা পেলেই তিনি পুত্রবধূকে যৌন হয়রানি ও ধর্ষণ করতেন। এ বিষয়ে স্বামী সোহানসহ পরিবারের অন্যদের জানালেও কোনো প্রতিকার পাননি ভুক্তভোগী। বরং তাকে ভয়ভীতি দেখানো হতো।
অসহ্য হয়ে মিতু মোবাইলে শ্বশুরের নির্যাতনের ভিডিও ধারণ করে ভাইয়ের কাছে পাঠান। এরপর ঘটনাটি জানাজানি হলে নির্যাতন আরও বেড়ে যায়। গত ২৯ সেপ্টেম্বর রাতে মিতুর পরিবারের কাছে ফোনে জানানো হয় তিনি আত্মহত্যা করেছেন। তবে স্বজনরা গিয়ে দেখেন লাশ খাটে রাখা, গলায় ফাঁসের কোনো চিহ্ন নেই। তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে মিতুকে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় নিহতের বাবা মেনাজুল হক বাদী হয়ে ১ অক্টোবর কোতয়ালী থানায় চারজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঘটনার পর থেকেই শ্বশুর রাজা মিয়া, স্বামী সোহান ও পরিবারের অন্যরা পলাতক ছিলেন। পরবর্তীতে মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করে হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানায় এলাকাবাসী।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি ক্রাইম তোফায়েল আহমেদ বলেন, “গ্রেফতার সোহানকে আদালতে পাঠানো হবে। মামলার অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।