রাশিয়ায় দায়িত্ব পালন শেষে দেশে ফিরে আসা উত্তর কোরিয়ার একটি সেনা প্রকৌশল ইউনিটকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) শনিবার এ তথ্য জানায়।
কেসিএনএ জানায়, কোরিয়ান পিপলস আর্মির (কেপিএ) ৫২৮তম ইঞ্জিনিয়ারিং রেজিমেন্টের অফিসার ও সদস্যরা প্রায় ১২০ দিন বিদেশে অবস্থান করে মিশন শেষ করে দেশে ফেরেন। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে কিম জং উন তাদের সাহসিকতা ও শৃঙ্খলার প্রশংসা করেন।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, সেনারা বিমান থেকে নামার সময় কিম জং উন তাদের অভ্যর্থনা জানান। এক পর্যায়ে তিনি হুইলচেয়ারে থাকা এক আহত সেনাকে জড়িয়ে ধরেন।
কিম বলেন, ক্ষমতাসীন ওয়ার্কার্স পার্টি অব কোরিয়ার নির্দেশনা অনুযায়ী সেনারা দায়িত্ব পালন করে বীরত্ব ও আনুগত্যের পরিচয় দিয়েছে। তিনি জানান, ওই ইউনিটটি ইউক্রেন যুদ্ধ চলাকালে রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলে যুদ্ধ ও প্রকৌশল সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
কেসিএনএ আরও জানায়, চলতি বছরের আগস্টের শুরুতে ইউনিটটি রাশিয়ায় পাঠানো হয়। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর কোরীয় সেনারা কুরস্ক অঞ্চলে ইউক্রেনীয় অনুপ্রবেশ প্রতিহত করার পাশাপাশি মাইন পরিষ্কারের কাজেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় গত বছর উত্তর কোরিয়া প্রায় ১৪ হাজার সেনা রাশিয়ায় পাঠায় বলে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সূত্র দাবি করেছে। এসব সূত্র অনুযায়ী, সংঘর্ষে ছয় হাজারের বেশি উত্তর কোরীয় সেনা নিহত হয়েছেন।
কিম জং উন জানান, সাম্প্রতিক মিশনে নয়জন সেনা প্রাণ হারিয়েছেন, যা তিনি ‘গভীর বেদনাদায়ক ক্ষতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে ‘ডেমোক্রেটিক পিপলস রিপাবলিক অব কোরিয়ার বীর’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ৫২৮তম রেজিমেন্টকে ‘অর্ডার অব ফ্রিডম অ্যান্ড ইন্ডিপেন্ডেন্স’ সম্মাননা দেওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, শুক্রবার পিয়ংইয়ংয়ে অনুষ্ঠিত এই সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে সামরিক ও দলীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, সেনাদের স্বজন এবং বিপুলসংখ্যক মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
কিম বলেন, বিপজ্জনক পরিবেশে দায়িত্ব পালন করে সেনারা দল ও রাষ্ট্রের প্রতি সর্বোচ্চ আনুগত্যের দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি তাদের রাজনৈতিক সচেতনতা, ঐক্য ও পেশাদারিত্বকে উত্তর কোরিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর জন্য অনুসরণযোগ্য মডেল হিসেবে উল্লেখ করেন।