আরএনবি ডেস্কঃ ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকার প্রধান শহর গাজা সিটি–র বিভিন্ন এলাকার ধ্বংসস্তূপ থেকে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারা দিনে ৯৪ জনের দেহাবশেষ উদ্ধার করেছে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। উদ্ধার করা দেহাবশেষগুলো পরে গাজার প্রধান হাসপাতাল আল-শিফা মেডিকেল কমপ্লেক্স–এর ফরেনসিক বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ফরেনসিক বিভাগের তত্ত্বাবধানে শনাক্তকরণ ও আনুষ্ঠানিকতা শেষে এসব দেহাবশেষ গাজা সিটির পার্শ্ববর্তী দেইর আল-বালাহ এলাকার শহীদ কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ধার হওয়া ৯৪ জনের সবাই ইসরায়েলি বাহিনীর বোমা হামলায় ধ্বংস হওয়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে প্রাণ হারান। তারা জানান, ধ্বংসস্তূপে পূর্ণমাত্রায় অনুসন্ধান চালানো হলে আরও বহু মরদেহ উদ্ধার হতে পারে। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি–কে দেওয়া তথ্যেও এ আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাস–এর যোদ্ধারা ইসরায়েলে হামলা চালিয়ে প্রায় এক হাজার ২০০ জনকে হত্যা এবং ২৫০ জনকে জিম্মি করে নিয়ে যান। এর পরদিন ৮ অক্টোবর থেকে গাজা উপত্যকায় সামরিক অভিযান শুরু করে ইসরায়েল।অভিযানের সময় গাজার বিভিন্ন আবাসিক এলাকা, হাসপাতাল, স্কুল, দোকানপাট ও আশ্রয়কেন্দ্রে ব্যাপক বোমাবর্ষণ করা হয়। এতে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে এবং বহু মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন, যাদের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
২০২৫ সালের ১০ অক্টোবর গাজায় যুদ্ধবিরতির দুই মাস পর, গত ডিসেম্বর থেকে ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকাজ শুরু করে গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বাহিনী। কর্মকর্তারা জানান, উদ্ধার অভিযান শুরুর পর এবারই প্রথম একটি ধ্বংসস্তূপ থেকে একই পরিবারের এতজন সদস্যের দেহাবশেষ পাওয়া গেছে।হামাস–ইসরায়েল সংঘাতের গত দুই বছরে গাজা উপত্যকায় অন্তত ৭০ হাজার ৭০০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও এক লাখ ৭০ হাজারের বেশি মানুষ। নিহত ও আহতদের বড় অংশই নারী ও শিশু। এ ছাড়া ব্যাপক বোমাবর্ষণে গাজায় জমে উঠেছে শত শত টন ধ্বংসাবশেষ ও আবর্জনা, যা অপসারণ করাও এখন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।