নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে। কামারপুকুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার হোসেন-এর নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক নেতা-কর্মী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-তে যোগ দিয়েছেন।
রোববার রাতের দিকে নীলফামারী-৪ (সৈয়দপুর–কিশোরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফুর সরকার-এর হাতে ফুলের তোড়া দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে তারা দলে অন্তর্ভুক্ত হন।
যোগদান অনুষ্ঠানে জেলা বিএনপির সহসভাপতি কাজী একরামুল হক, সৈয়দপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি লোকমান হোসেনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় কামারপুকুর ইউনিয়নের বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিটের আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরাও আনোয়ার হোসেনের সঙ্গে বিএনপিতে যোগ দেন।
নবাগতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হলেন—৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক লাবু সরকার, ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সভাপতি আলতাফ হোসেন এবং উপজেলা আওয়ামী লীগের সমাজকল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক আবুল হাসেম সরকার। স্থানীয় সূত্র জানায়, ইউনিয়নের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নেতা-কর্মী এই রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন।
রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কামারপুকুর বাজার এলাকার একটি চালকল চত্বরে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নবাগত নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানান অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার।
স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, কার্যকর নেতৃত্বের অভাব এবং সাংগঠনিক স্থবিরতার কারণে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বাড়ছিল। এসব কারণেই তারা বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন ও কর্মসূচির প্রতি আস্থা রেখে দল পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেন।
৮ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি আলতাফ হোসেন বলেন, ২০১৭ সালে রাজনীতিতে যুক্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় নেতৃত্বের ভূমিকা নিয়ে তিনি হতাশ ছিলেন। একই ধরনের মনোভাব অনেক নেতা-কর্মীর মধ্যেই ছিল। তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো ধরনের চাপ বা ভয়ভীতি ছাড়াই তারা স্বেচ্ছায় বিএনপিতে যোগ দিয়েছেন। গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও আইনশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তারা নতুন দলে কাজ করতে চান।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ আব্দুল গফুর সরকার বলেন, আনোয়ার হোসেনের নেতৃত্বে প্রায় ৭০ জন নেতা-কর্মীর যোগদান বিএনপিকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও শক্তিশালী করবে। নবাগতদের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সংগঠনিক সক্ষমতা দলের কার্যক্রমে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।