নিয়মিত কোরআন তিলাওয়াতকারীদের মর্যাদা ইসলামে অত্যন্ত উচ্চ। হাদিসে তাঁদেরকে আল্লাহর বিশেষ বান্দা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। হজরত আনাস ইবনে মালিক (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
“কিছু মানুষ আল্লাহর পরিজন।” সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেন, “যারা কোরআন তিলাওয়াত করে, তারাই আল্লাহর পরিজন ও তাঁর নির্বাচিত বান্দা।”
(ইবনে মাজাহ: ২১৫)
ইসলামী শিক্ষায় কোরআনের মুদ্রিত কপি বা মুসহাফ দেখে তিলাওয়াত করাকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। মূল কোরআন শরিফ হাতে নিয়ে পড়লে এর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি তিলাওয়াতের মধ্যে আলাদা এক অনুভূতি ও মনোযোগ তৈরি হয়। সাধারণত মুসহাফ পাঠের সময় অজু করে বসা হয়, যা কোরআনের প্রতি বাড়তি আদব ও যত্নের বহিঃপ্রকাশ।
এ ছাড়া কাগজের কোরআন থেকে পড়লে আয়াতের অর্থ ও ভাবার্থে গভীর মনোযোগ দেওয়া সহজ হয়। চোখের সামনে আয়াত থাকায় তিলাওয়াত ধীরস্থির ও ভাবগম্ভীর হয়, যা হৃদয়ে বেশি প্রভাব ফেলে।
তবে কেউ যদি মোবাইল বা ডিজিটাল ডিভাইসের মাধ্যমে কোরআন তিলাওয়াত করেন, তাতেও সওয়াব থেকে বঞ্চিত হবেন না। আলেমদের মতে, কোরআনের লেখা কাগজে হোক বা স্ক্রিনে—উভয় ক্ষেত্রেই তা আল্লাহর বাণী। ফলে তিলাওয়াতের সওয়াবে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই।
ইমাম নববি (রহ.) তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ আল‑মাজমু‑তে উল্লেখ করেছেন, মুখস্থ তিলাওয়াতের তুলনায় মুসহাফ দেখে কোরআন পাঠ করা অধিক ফজিলতপূর্ণ। কারণ এতে একসঙ্গে দুটি ইবাদত আদায় হয়—তিলাওয়াত এবং আল্লাহর কালামের দিকে তাকানোর ইবাদত।
সব মিলিয়ে বলা যায়, কোরআনের মূল কপি থেকে তিলাওয়াত করা বেশি উত্তম ও ফজিলতপূর্ণ হলেও, প্রযুক্তির সাহায্যে কোরআন পড়া বা শোনা থেকেও সওয়াব অর্জিত হয়। আসল বিষয় হলো—নিয়মিত তিলাওয়াত করা এবং কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা।