ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দুদিনের রাষ্ট্রীয় সফরে পৌঁছেছেন ইসরায়েল, যা দিল্লি–তেল আবিব সম্পর্ককে আরও গভীর করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক ধরে দুই দেশের কৌশলগত ঘনিষ্ঠতা যে দ্রুত বেড়েছে, এবারের সফরে সেটি আরও এক ধাপ এগোতে পারে—এমন বিশ্লেষণ দিয়েছে NDTV এবং Al Jazeera।
বুধবার তেল আবিবের বেন গুরিয়ন বিমানবন্দরে মোদিকে স্বাগত জানান ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সফরের মধ্যে রয়েছে—জেরুজালেমে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেট–এ ভাষণ, হলোকাস্ট স্মৃতিসৌধ ইয়াদ ভাশেম পরিদর্শন, ইসরায়েলি প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগ–এর সঙ্গে সাক্ষাৎ, মোদি–নেতানিয়াহু দ্বিপক্ষীয় বৈঠক, একাধিক গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনা।
এনডিটিভি জানিয়েছে, ভারতের হিন্দুস্তান অ্যারোনটিক্স লিমিটেড (HAL)–এর সঙ্গে ইসরায়েলের একটি সরকারি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানের যৌথ প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হবে।
চুক্তির সম্ভাব্য লক্ষ্য: ৬টি বোয়িং ৭৬৭ বিমানকে সামরিক জ্বালানি ভরার বিমানে রূপান্তর, মোট মূল্য—৮,০০০ কোটি টাকা, স্বাক্ষর সম্ভাব্য সময়—২০২৬ সাল, এই ট্যাংকার জেট ভারতের যুদ্ধবিমান বহরের জন্য বহুদিনের প্রয়োজন ছিল।
দুই দেশের বাণিজ্য ১৯৯২ সালে ছিল মাত্র ২০ কোটি ডলার। ২০২৪ সালে তা বেড়ে হয়েছে প্রায় ৬.৫ বিলিয়ন ডলার। ভারতের রপ্তানি: রত্ন–গহনা, রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইসরায়েলের রপ্তানি: প্রযুক্তি সরঞ্জাম, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে—প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব আরও শক্ত হবে, দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি–সহযোগিতা নতুন পর্যায়ে যেতে পারে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়বে, FTA বা বড় বিনিয়োগ চুক্তি হলে বাণিজ্য বাড়বে দুই দেশেই। ইসরায়েলের কাছে ভারতের রাজনৈতিক বার্তা বিশ্বের একটি বড় গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে ভারতের এই সফর ইসরায়েলের জন্য কূটনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে ভারতের অবস্থান নতুনভাবে নির্ধারিত হতে পারে, ইরান–ইসরায়েল–আরব বিশ্বের টানাপোড়েনের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা ভারতের জন্য বড় কূটনৈতিক পরীক্ষা।
মোদি–নেতানিয়াহু বৈঠক শুধু দুই দেশের সম্পর্কই নয়, মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতির ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনাও শক্তভাবে প্রভাবিত করতে পারে। যে কারণে মোদির এই সফর আন্তর্জাতিক মহলে বিশেষ গুরুত্ব ধরে রেখেছে।