বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:৪৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
কৌশলগত অংশীদারত্বে কর্মীদের কল্যাণে নতুন উদ্যোগ আকিজ রিসোর্সের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী নয় উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার সমাজকল্যাণমন্ত্রী শক্তি বাড়ছে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের, বুধবার অন্ধ্র উপকূলে আঘাতের শঙ্কা পীরগঞ্জে ধর্ম অবমাননার অভিযোগে যুবকের বাড়িসহ তিন বাড়িতে হামলা, গ্রেপ্তার ২ অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে চট্টগ্রামে জামায়াত নেতাকে সাংগঠনিক পদ থেকে অব্যাহতি ২৯ অক্টোবর হচ্ছে না এইচএসসির ফল, নতুন তারিখ ৩১ অক্টোবর ৩৫০ বছর আগে বিলুপ্ত ডোডো পাখি পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনছেন বিজ্ঞানীরা! ১ নভেম্বর চার মাসের বকেয়াসহ বাড়তি বেতন, তবে পাচ্ছেন না সবাই ভুয়া বিলের মাধ্যমে রেলওয়ের ৯৬ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, দুদকের মামলা ১৪ জনের বিরুদ্ধে ধর্ম অবমাননার অভিযোগ ঘিরে পীরগঞ্জে তিন হিন্দু পরিবারের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর

হার মানেননি মা

  • সবশেষ আপডেট : রবিবার, ১০ মে, ২০২৬
  • ১১৮ জন সংবাদটি দেখেছেন

এক বিরল জিনগত রোগে আগেই হারিয়েছেন দুই সন্তানকে। সেই বিরল রোগে তৃতীয় ও কনিষ্ঠ ছেলের জীবন ছিল প্রদীপও নিভু নিভু অবস্থায়। তবে হার মানেননি মা। সন্তানকে বাঁচাতে লিভারের একটি অংশ দান করে নতুন জীবন দিলেন তিনি। মা দিবসের আগে এমন হৃদয়স্পর্শী ঘটনাটি সামনে এনেছেন ভারতের ফরিদাবাদের চিকিৎসকরা।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়, জম্মু ও কাশ্মীরের এক সেনাসদস্যের পরিবারে জন্ম নেওয়া চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র বাদল চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিল ‘উইলসনস ডিজিজ’-এ। এটি অত্যন্ত বিরল এক বংশগত রোগ, যেখানে শরীরে অতিরিক্ত কপার জমতে থাকে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে লিভার ও মস্তিষ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। একই রোগে আগেই মারা যায় বাদলের বড় দুই ভাই।

চিকিৎসকরা জানান, বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসা করিয়েও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত শিশুটিকে গুরুতর অবস্থায় ফরিদাবাদের ম্যারেঙ্গো এশিয়া হাসপাতালে নেওয়া হয়। তখন তার শরীরে জন্ডিস ভয়াবহ আকার ধারণ করেছিল। পেটে জমেছিল সংক্রমিত তরল, আর পরীক্ষায় ধরা পড়ে লিভার প্রায় বিকল হয়ে গেছে।

হাসপাতালের লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট ও এইচপিবি সার্জারি বিভাগের প্রধান ডা. পুনীত সিংলা বলেন, শিশুটির অবস্থা এতটাই সংকটজনক ছিল যে জরুরি ভিত্তিতে লিভার প্রতিস্থাপন ছাড়া অন্য কোনো উপায় ছিল না। একই রোগে দুই সন্তান হারানোর পর তৃতীয় সন্তানকেও মৃত্যুর মুখে দেখে পরিবারটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছিল বলেও জানান তিনি।

এমন পরিস্থিতিতে এক মুহূর্ত দেরি না করে লিভার দানের সিদ্ধান্ত নেন বাদলের মা রেণু চৌধুরী। প্রয়োজনীয় মেডিকেল পরীক্ষায় তিনি উপযুক্ত প্রমাণিত হলে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি শুরু হয়।

গত বছরের ডিসেম্বরে প্রায় ১২ থেকে ১৩ ঘণ্টাব্যাপী জটিল অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে মায়ের লিভারের একটি অংশ শিশুটির শরীরে প্রতিস্থাপন করা হয়। দীর্ঘ সময়ের এই অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

অস্ত্রোপচারের পর ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠেন মা ও ছেলে দুজনেই। তিন সপ্তাহ পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় বাদলকে। বর্তমানে সে স্বাভাবিক জীবনযাপন করছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, উইলসনস ডিজিজ অত্যন্ত বিরল হওয়ায় প্রাথমিক পর্যায়ে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন। কারণ এর লক্ষণগুলো অনেক সময় সাধারণ লিভার বা স্নায়বিক রোগের মতোই দেখা যায়। তাই সময়মতো রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা না হলে পরিস্থিতি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

হাসপাতালের ডিরেক্টর ডা. নবনীত সিং ছাবড়া বলেন, আধুনিক লিভার প্রতিস্থাপন চিকিৎসার অগ্রগতি এবং সঠিক সময়ে চিকিৎসা হস্তক্ষেপের কারণেই শিশুটির জীবন বাঁচানো সম্ভব হয়েছে। তবে পুরো ঘটনার সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবেন সেই মা, যিনি নিজের শরীরের একটি অংশ দিয়ে সন্তানের জীবনের জন্য লড়াই করেছেন।

এই খবরটি আপনার সোস্যাল মিডিয়ায় শেয়ার দিন

এই ক্যাটাগরির আরও খবর
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত আরএনবি নিউজ ২০২৫-২৫
Theme Download From ThemesBazar.Com