হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর (আইআরজিসি) নৌবাহিনীর সঙ্গে ইউরোপীয় দেশগুলোর আলোচনা শুরু হয়েছে। শনিবার ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হরমুজ ও লারাক দ্বীপের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে পূর্ব এশিয়ার কয়েকটি দেশের জাহাজ ইরানের তত্ত্বাবধানে বিশেষ ট্রানজিট ব্যবস্থার আওতায় চলাচল শুরু করার পর এ আলোচনা গতি পায়।
এ বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির প্রধান ইব্রাহিম আজিজি জানান, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও ইরানের সার্বভৌমত্ব বজায় রেখে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণে একটি “পেশাদার কাঠামো” প্রস্তুত করেছে তেহরান।
তার ভাষ্য, এই ব্যবস্থাটি কেবল বাণিজ্যিক জাহাজ এবং “ইরানের সঙ্গে সহযোগিতাকারী” পক্ষগুলোর জন্য প্রযোজ্য হবে। বিশেষ সামুদ্রিক সেবার বিনিময়ে ইরান ফি আদায় করবে বলেও তিনি জানান।
ইব্রাহিম আজিজি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত তথাকথিত “ফ্রিডম প্রজেক্ট”-সংশ্লিষ্ট জাহাজ বা অপারেটরদের জন্য এই রুট বন্ধ থাকবে।
গত দুই মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-সংশ্লিষ্ট জাহাজ চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইরান। এতে বিশ্বে সমুদ্রপথে পরিবাহিত তেলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বহনকারী গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে বড় ধরনের বিঘ্ন তৈরি হয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্রও ইরানি বন্দর থেকে যাত্রা করা জাহাজের ওপর অনুরূপ বিধিনিষেধ আরোপ করে।
তেহরান জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নৌ অবরোধ প্রত্যাহার, জব্দ করা সম্পদ মুক্ত এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিল না করা পর্যন্ত হরমুজ পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।
এদিকে উভয় পক্ষ সম্প্রতি ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম মজুতের বিষয়টি পরে আলোচনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আপাতত হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং সামুদ্রিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়েই আলোচনা এগোচ্ছে।