উজানে ভারতের অরুণাচল প্রদেশে ভারি বৃষ্টি এবং দেশের অভ্যন্তরে টানা বর্ষণের কারণে উত্তরাঞ্চলের নদ-নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার পাশাপাশি নতুন করে ভাঙনও শুরু হয়েছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার মহিপুরে। তিস্তার পানির প্রবল স্রোতে দ্বিতীয় তিস্তা সেতুর রক্ষা বাঁধে এলজিইডির নির্মিত বাঁশের পাইলিং ভেঙে গেছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১৫০ মিটারের বেশি অংশ ধসে গিয়ে বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে রংপুর-লালমনিরহাট আঞ্চলিক সড়ক এবং দ্বিতীয় তিস্তা সেতু।
প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। তাই দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা না নিলে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, রোববার দুপুর ১২টায় ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার মাত্র ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাটই খুলে রাখা হয়েছে।
এদিকে রংপুর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার তিস্তাপাড়ের নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। কোথাও কোথাও ফসলের খেত ও বীজতলা ইতোমধ্যে তলিয়ে গেছে। কৃষকদের আশঙ্কা, পানি আরও বাড়লে আমন মৌসুমের প্রস্তুতি বড় ধাক্কায় পড়বে। একইসঙ্গে চরাঞ্চলের হাজারো পরিবার বন্যা ও নদীভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। বৃষ্টিপাত চলতে থাকলে যেকোনো সময় তিস্তার পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে।